
মো: সবুজ ইসলাম,রাণীশংকৈল
চারদিকে বিস্তৃত ফসলের মাঠ, পাশে দুটি ছোট পুকুর, সামনে কয়েকটি বাড়ি। সেই পুকুরপাড়েই মাটির চার দেয়ালের ছোট একটি ঘর। ভাঙা টিনে ঘেরা দেয়াল, উপরে কয়েকটি ঢেউটিনের ছাউনি আর সেই ছাউনিকে চাপা দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট গাছের ডাল দিয়ে—দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো পাখির বাসা। কাছে না গেলে বোঝার উপায় নেই, এখানে মানুষ বসবাস করে। বারান্দায় একটি চুলা চোখে পড়লেই কেবল টের পাওয়া যায়—এটাই কারো জীবনের আশ্রয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের জাবড়াকুড়া এলাকায় এমন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় ৪৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়েই তার জীবনের প্রতিটি দিন সংগ্রামের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভাঙা ঘরের এক পাশে একটা চৌকি তার পাশে একটা টেবিল আর এক কোণে টিউবওয়েল। সেই ঘরেই তাদের বসবাস। শুধু তাই নয় প্রাকৃতিক কাজ সারতে হচ্ছে খোলা মাঠেই। কথা হয় দেলোয়ারের সাথেই।
দেলোয়ার হোসেন জানান, তার সন্তান বকুল যখন মাত্র দুই বছরের, তখনই মারা যান তার মা। ছোট্ট শিশুটিকে রেখে স্ত্রী না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি তিনি। কারণ, নতুন করে সংসার করলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে কেউ হয়তো গ্রহণ করবে না—এই আশঙ্কাই তাকে আটকে রেখেছে।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর বকুলকে বড় করেছেন দেলোয়ারের মা। কিন্তু পরবর্তীতে তার মায়ের মৃত্যুর পর সন্তানটির সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে তার একার কাঁধে। তখন থেকেই শুরু হয় এক কঠিন লড়াই।
চিকিৎসার জন্য বাবার দেওয়া সামান্য সম্পত্তিও বিক্রি করেছেন দেলোয়ার। সবকিছু শেষ করে এখন মাত্র ৬ শতক জমির ওপর ভাঙাচোরা একটি ঘর তুলে দিনমজুরির আয়েই কোনোভাবে বেঁচে আছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানের সব কাজই করতে হয় দেলোয়ারকে। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার নেই কোনো সম্পত্তি নেই কোনো সম্পদ।আছে আমার সন্তান। ছেলে পেতো সরকারি ভাতা আর এখন “আমার ছেলের সেই প্রতিবন্ধী ভাতাটাও বন্ধ হয়ে গেছে। আমার যে আয় তা দিয়েই কষ্টে দিন পার করছি। সামনে ঈদ, অথচ মা-হারা ছেলেটাকে একটা নতুন কাপড়ও কিনে দিতে পারিনি।”

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান