
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরুতে পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশের নাম ফরহাদ মোল্যা (২৮)। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামের ইলিয়াস মোল্যার ছেলে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রাম পুলিশ ফরহাদ মোল্যা তার বাড়ির পাশে একটি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তার চাচাতো ভাই প্রবাসী ইমরুল মোল্যার পালিত একটি গরু বেশ কয়েকবার ওই ক্ষেতে ঢুকে পেঁয়াজ নষ্ট করে। গত ৮ মার্চ বিকেলে আবারও গরুটি ক্ষেতের বড় একটি অংশের ফসল নষ্ট করলে ফরহাদ মোল্যা সেটিকে ধরে এনে নিজের বাড়িতে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে ইমরুল মোল্যার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইসলাম মোল্যা গোপনে ফরহাদ মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করে গরুটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ফরহাদ মোল্যা লাঠি নিয়ে শিশুটিকে তাড়া করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী ইমরুল মোল্যার স্ত্রী আরবী বেগম তার ছেলেকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ হয়ে আরবী বেগম গ্রাম পুলিশ ফরহাদ মোল্যার বিরুদ্ধে বানোয়াট ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তোলেন। এ সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পিতা ইলিয়াস মোল্যা বলেন, ‘ইমরুল আমার ভাতিজা। তার গরু আমার ছেলের ফসল নষ্ট করায় ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। প্রতিহিংসাবশত সামাজিকভাবে হেয় করতেই আমার ছেলের নামে এমন মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রবাসী ইমরুল মোল্যার স্ত্রী আরবী বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ‘ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্ত চালানো হয়েছে। তদন্তে চাঁদাবাজির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মারধরের অভিযোগ থাকায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন
বগুড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি: প্রার্থী রনি গ্রেপ্তার
লালমোহনে বাস চাপায় প্রাণ গেল শিশুর
মির্জাপুরে মারধর ও ধর্ষণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু