
জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় স্ত্রী ও আড়াই বছরের মেয়ে সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামী জয় সরকার (২৫) আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বলরামচক গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বলরামচক গ্রামের চৌধুরী পাড়ার গৌতম সকারের ছেলে জয় সরকার (২৫), তার স্ত্রী বৃষ্টি রানী (২০) ও আড়াই বছরের মেয়ে জিনি সরকার।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- গৌতম সকারের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে জয় সরকার গত প্রায় ৮ বছর আগে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে দিনাজপুর জেলার মেয়ে বৃষ্টি রানীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে জয়। সন্তান মাদক থেকে দুরে থাকবে এবং ভাল হয়ে যাবে জন্য পারিবারিক ভাবে গত ৫ বছর আগে বৃষ্টি রানীর সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পরও তার অভ্যাস পরিবর্তন না হওয়ায় সংসারে ঝগড়া ও কলহ লেগেই থাকতো। জয় মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি অনেকবার সংসার ছেড়ে চলে যায় এবং ফিরেও আসেন। মাদক কেনার জন্য প্রায় বাবার কাছে চাহিদামতো টাকা দাবী করতো। টাকা দিতে না পারলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি দেখা দিতো।
বৃহস্পতিবার রাতেও এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। রাতের খাবার খেয়ে তারা যে যার মতো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে জয়ের ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যায়। স্ত্রী ও সন্তানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও জয়ের গলায় ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে স্ত্রী বৃষ্টি রানী মারা যান। গুরুত্বর অবস্থায় জয় সরকার ও মেয়ের জিনি সরকারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তারাও মারা যান।
ঘটনাটি জানতে ও এক নজর দেখতে স্থানীয় সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সকাল থেকে ওই বাড়তি ভীড় করছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় ওই বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা ছিলেন।
প্রতিবেশীয় বিজন কুমার ও ভুবন বলেন, জয় মাকদাসক্ত ছিলো। নেশার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। টাকা না দিলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। একাধিক মোটরসাইকেলও মোবাইল ফোন আছে। তারপরও আরো চাহিদা ছিলো। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের বাড়িতে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পায়। বাড়ির বাইরে এসে দেখি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করা হচ্ছে। জয়ের গলায় কাপড় রক্তাক্ত কাপড় পেচানো ছিল, তার স্ত্রী ও সন্তান্তের বুকে-পেটে ছুরিকাঘাত এবং প্রচুর রক্ত ঝরছিল।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার শেফালি খাতুন বলেন- রাতেই ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু আসতে পারিনি। সকাল ৮ টার দিকে নিহতের বাড়িতে আসি। পরিবারটি ভাল ছিলো। কিন্তু মাদকাসক্ত ছেলের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকের কারণে তিনটি জীবন শেষ হয়ে গেল।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রী বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জয় সরকার মাদকাসক্ত ছিলো। জয় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশিদের সাথে বেপরোয়া আচরণ করতেন। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি তদন্ত সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ