হোম » সারাদেশ » নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি: 
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের ওয়ারেন্টমূলে আসামী ধরতে গিয়ে আসামীর বাড়ি দেখিয়ে দেয়ার জন্য ডেকে নেয়া আব্দুল হামিদ ওরফে ধলা (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসামী না হলেও হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে পুলিশের টানা হেঁচড়া ও লাথি মারার পর ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়-জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীর দায়ের করা মামলায় আব্দুল হামিদের ছেলে ইমরানের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। ইমরান ঢাকায় রিক্সা চালান। কয়েক দিন আগে বাড়ি এসেছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন সহ ৫ পুলিশ মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে আসামী আটকের অভিযান জালায়। এসময় পুলিশ আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে জানালা দিয়ে ডেকে অন্য আসামী এসলামের বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলেন।
এক পর্যায়ে পুলিশ লাথি দিয়ে টিনের দরজা ভেঙ্গে আব্দুল হামিদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তার ছেলে ইমরান ভয়ে পালিয়ে যায়।
এসময় পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদের হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে আটক করে টেনে হেঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে। এসময় ইমরানের ১১ বছরের ছেলে রিপনও দাদার সাথে বাইরে আসে। এসময় আব্দুল হামিদ তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল হামিদকে লাথি মারে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা এসে আব্দুল হামিদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এই ঘটনার সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মরদেহ নিহতের বাড়ির খলিয়ানে ফেলে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকেই একটি চক্র বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠে। দফায় দফায় চলে বৈঠক। এরপরই নিহতের স্বজনেরা থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে আলোচনায় বসেন। নিহতের বড় ছেলে জাহিদুল ইসলাম তার বাবার মৃত্যুতে তাদের কোন অভিযোগ নেই এবং মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে থানায় একটি লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেন।
নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন বলেন, তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে দরজা ভেঙে ৫ পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। আমিও দাদার সাথে বাইরে যায়। দাদা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে এবং পা জড়িয়ে ধরে। এ সময় পুলিশ দাদাকে লাথি মারলে দাদা মাটিতে পড়ে যায়। এরপর বুকে ব্যাথা শুরু হলে কিছু সময়ের মধ্যে দাদা মারা যান।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স বলেন, রাতে কয়েকজন পুলিশ আব্দুল হামিদের বাড়িতে ঢুকে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে আটক করতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোন আসামি পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে পুলিশ আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে পুলিশ সহযোগীতা চাইলে তিনি নিজ থেকে সহযোগিতা করেন। এসময় তার নাতিও সাথে ছিলো। এরপর তাকে রেখে পুলিশ চলে আসে। আসার ২-৩ ঘন্টা পর জানানো হয় তিনি মারা গেছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। সেখানে পুলিশের মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!