প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কাউখালীতে অভিযোগের পরে ঘুষের টাকা ফেরত

এনামুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি
পিরোজপুর কাউখালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১৮ হাজার টাকার খাজনার রশিদ পাইতে ৫৯ হাজার টাকা দাবি ৪৫ হাজার টাকায় রফা দফা এমন অভিযোগ করেছেন উপজেলার গোসনতারা গ্রামের ফোরকান সরদারের ছেলে মাসুদ সরদার।তিনি জানান একটি জমি ক্রয় করার জন্য হালনাগাদ খাজনার দাখিলা প্রয়োজন হলে হালনাগাদ দাখিলা নেওয়ার জন্য সদর তহশিলদার মোঃ কামাল হোসেনের কাছে যান। এ সময় তহশিলদার তার কাছে চারটি খতিয়ানের বকেয়ার খাজনা সহ সর্বমোট খাজনা বাবদ ৫৯ হাজার টাকা দাবি করেন। জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য দাখিলা অতি জরুরী হয়ে পড়ায় নিরুপায় হয়ে দলিল লেখক মুকুলে আজম লিটন কে বিষয়টি জানান মাসুদ । সে তহশিলদারের সাথে কথা বলে ৪৫ হাজার টাকায় দাখিলা দেওয়ার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মাসুদ লিটনের কাছে ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং তিনি খাজনার দাখিলা কেটে জমির দলিল রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করে দেন। পরবর্তী সময়ে দাখিলার রশিদ চাইলে লিটন দাখিলার রশিদ দিতে তালবাহানা শুরু করে।
বিষয়টি সন্দেহ হলে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি ঐ দাখিলার রশিদ প্রদান করেন।যেখানে দেখা যায় যে চারটি খতিয়ানের মধ্যে ২৩নং খতিয়ানে ১১০ টাকা, ২৪নং খতিয়ানে ১১২ টাকা, ১৬৬নং খতিয়ানে ১০৫৮ টাকা এবং ২০৬নং খতিয়ানে ১৭২১৮ টাকা মোট ১৮৪৯৮ টাকার রশিদ প্রদান করেন। বাকী ২৬৫০২ টাকার আত্মসাৎ করেন।
তার কাছে অতিরিক্ত টাকা ফেরত চাইলে লিটন জানান টাকা আমি তহশিলদারকে দিয়েছি সে ফেরত দিলে আমি দিয়ে দেব।
এক সপ্তাহ তার কাছে ধরনা দেওয়ার পরে বিষয়টি দুর্নীতি বিরোধী সংগঠন গ্রীনফোর্স বাংলাদেশ কাউখালী শাখায় যোগাযোগ করেন অভিযোগকারী ।পরে তাদের পরামর্শ ২মার্চ তারিখে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের বরাবরের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও গ্রীনফোর্স এর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করলে অভিযোগের একদিন পর গত মঙ্গলবার দলিল লেখক মুকুলে আজম লিটন স্থানীয় ইউপি সদস্য আজম আলী খানকে সাথে নিয়ে মাসুদের বাড়ি উপস্থিত হয়ে ঘুষের ৩৩ হাজার ৫শত টাকা ফেরত প্রদান করেন। এ ব্যাপারে মাসুদ আরো জান তার কাগজে ভুল আছে বলে দাখিলার টাকার বাইরে আরো ৭ হাজার টাকা নিয়েছিল যা সব ফেরত দিয়েছেন। ইউপি সদস্য আজম আলী খান বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মুখলে আজম লিটনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল সমাধান হয়েছে। সদর ইউনিয়নের তহশিলদার কামাল হোসেন অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা বলে জানান। এ ব্যাপারে গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ এর কাউখালী উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা এডভোকেট জহুরুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.