প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:৩৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
কাউখালীতে কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, সরকারি কর্মচারীরা ভাড়া না দিয়ে বসবাস করার অভিযোগ

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুর কাউখালীতে সরকারি বাসভবনে বসবাস করেও সরকারি কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে ভাড়ার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর ভাড়া না দিয়ে তেইশ বছর একই কোয়াটার বসবাস। অভিযোগের বিষয়
সরজমিনে অনুসন্ধান করলে জানা যায় ১৯৮৩-৮৪ সনে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকার আমলে উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য আবাসিক ভবন তৈরি করা হয় এবং ১৯৮৫ সন থেকে এই বাসভবন গুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস শুরু করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বাসভবনে বসবাস করলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়ার অংশ কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা। অথচ এখানে শুভংকরের ফাঁকি হলো সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেও অনেক কর্মচারীরা বাসায় থাকার কাগজে প্রমান নাই। যারফলে তাদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন করতে না পারায় সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়। এছাড়া কেউ কেউ আবার বড় পদে চাকুরী করে ছোট কর্মচারীদের নামে সরকারি বাসার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করছে এমন অভিযোগ রয়েছে । এই পদ্ধতিতেও সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যুগ যুগ ধরে সরকারি কোয়র্টারে অবৈধভাবে বসবাস করেও সরকারি খাতে কোন রাজস্ব জমা না দিয়েই অনেকে চাকুরী থেকে অবসরে গেছেন। আবার কেউ কেউ বকেয়া টাকা না দিয়ে মারা যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। অনেকে বাসা ভাড়ার হাজার হাজার টাকা বকেয়া রেখে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে গেলেও বকেয়া বাসা ভাড়ার টাকা দেয়ার কোন নাম নেই। এভাবে সরকারি কোয়ার্টার ও ডরমেটরীতে ভাড়া না দিয়ে চলে যাওয়াদের মধ্যে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর স্মৃতি কনা মন্ডল। তিনি ১৯৯৯ সন থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত কোয়ার্টারে বসবাস করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে বেতন থেকে ভাড়া কর্তন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে আর বাসাভাড়া কর্তন করা হয় নাই।ফলে তার কাছে ভাড়া বাবদ প্রায় ২০ লক্ষ টাকার অধিক বকেয়া থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে স্মৃতি কনা মন্ডল জানান, তথ্য সঠিক নয়, তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। তবে তার কাছে ভাড়া পরিশোধের কোন ডকুমেন্টস আছে কিনা জানতে চাইলে, আছে বললেও তিনি তেমন কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এছাড়াও তিনি স্বীকার করেছেন যে কোয়ার্টারে থাকলেও কোয়ার্টারের বরাদ্দ আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা কনিকার নামে। কারণ হিসেবে তার কিছু টাকা সাশ্রয়ী হওয়ার কথা বলেন। অপরদিকে উপাধ্যক্ষ সঞ্জিত সাহা, কাউখালী সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রয়াত আব্দুল জলিল, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ. মোঃ হুমায়ুন কবির, পিডিবিএফ মাঠ কর্মী হোসনেয়ারা খাতুন, মহিলা কলেজের প্রভাষক জাকির হোসেন, ইউএসও চিরাপাড়া কামরুন্নাহার, তহসিলদার নজরুল ইসলামসহ আরো অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে বাসা ভাড়া বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা বাকী থাকলেও এই টাকা পরিশোধের কোন উদ্যোগ নেই। উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করলে নামেমাত্র কয়েকজন কর্মচারী সামান্য কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানাগেছে। উপজেলার ডরমেটরী ভবনে বসবাসরত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও টাকা না দিয়ে অনেকেই অন্যত্র বদলী হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকে বর্তমানে বসবাস করলেও অধিকাংশ কর্মচারীরা বাসা ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করছেন না বলে জানাযায়। উপজেলার বসভবনগুলো বরাদ্দের ও দেখভালের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি ও উপজেলা প্রকৌশলী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও তাদের দপ্তরেও বাসা ভাড়া বরাদ্দ দেওয়ার শুরু থেকে এ পর্যন্ত বরাদ্দের সকল তালিকা ও ভাড়া পরিষদের হিসাব সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায় নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি যোগদানের পরে বাসা ভাড়ার বকেয়ার বিষয়ে জানতে পেরে টাকা পরিশোধের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বকেয়ার বিষয়ে জানা ছিলনা। আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি শুনলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.