
রবিউল হাসান লায়ন, জামালপুর
জামালপুর পৌর শহরের জঙ্গলপাড়া এলাকায় এক বৃদ্ধ দম্পতিকে বেঁধে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে ডাকাতদল। গতরাত আনুমানিক ২ টার দিকে জঙ্গলপাড়া এলাকার মিয়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদলের সদস্যরা ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর করে দুজনকে দুটি কক্ষে বেঁধে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়।
ডাকাত দলের মারধরের শিকার সৈয়দ আব্দুল আল মাসুদ(৭০) ও রেহানা বেগম (৬০) দম্পতি।ছেলে-মেয়েরা বাড়ির বাইরে থাকায় ওই বাড়িতে একা বসবাস করতেন এই দম্পতি।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল আল মাসুদ জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী দুজন বাড়ির দুতলায় আলাদা আলাদা কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ২ টার দিকে ঘরের দরজা ভাঙ্গার শব্দে তার ঘুম ভাঙ্গে। এরই মধ্যে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে চাকু ও শাবল সাদৃশ্য লোহার রড ছিল। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাকাত দলের তিন সদস্য তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং একজন তার স্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করে।
তিনি জানান, ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে তিনি বাঁধা প্রদান করেন। এসময় ধস্তাধস্তিতে ডাকাতের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে তার হাতের দুটি আঙ্গুলের আংশিক কেটে যায় এবং প্রচন্ড রক্তপাত হয়। পরে ডাকাতরা তার চোখ, হাত ও পা বেঁধে বিছানায় ফেলে তাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর ডাকাতরা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, প্রায় ১ ঘন্টা লুটপাটের পর ডাকাতরা চলে গেলে তারা ডাক চিৎকার শুরু করেন। সেসময় স্থানীয়রা আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় বাসায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী রেহানা বেগম জানান, ডাকাতরা তার স্বামীর ঘরে ঢুকার পর তার স্বামী চিৎকার করতে থাকলেও কিছুক্ষণ পর সেই চিৎকার বন্ধ হয়ে যায়। এসময় প্রচন্ড ভয় পেয়ে যান তিনি। সেসময় ডাকাতদলের এক সদস্য তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। একপর্যায়ে তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ডাকাতদলের সদস্য। পরে তাকে বিছানায় ফেলে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয় ডাকাতরা এবং সারাঘর তছনছ করে টাকা ও স্বর্ণ লুট করে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলে- চাচি যাইতাছিগা, এখন ঘুমান।
ডাকাতরা আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ও বিশ ভরির উপরে স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি রেহানা বেগমের। এসময় লুট হওয়া স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর থানা পুলিশ। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।