
রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া সদর
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউএনও’র নাম ব্যবহার করে মাটি কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নে অবস্থিত আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে অনুমতি ছাড়াই মাটি খনন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণত কেউ পুকুর খনন, সংস্কার বা মাটি কাটার উদ্যোগ নিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে যা জানা গেল:
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোবারক আলী শেখের তত্ত্বাবধানে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার আগেই মাটি কর্তনের কাজ শেষ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য
এলাকার একাধিক সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাটি কাটতে গেলে নানা জটিলতা, জরিমানা কিংবা হয়রানির শিকার হতে হয়। সেখানে যদি সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই কাজ করে, তাহলে আইনের সমতা কোথায় থাকে?”
তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ঃ
স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসনের উচিত ঘটনাটি খতিয়ে দেখা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে বারবার ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ বিশ্লেষণ:
আইন সবার জন্য সমান—এই নীতিই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি। তাই অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্বচ্ছ তদন্তই পারে বিভ্রান্তি দূর করতে।