লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের তিনটি সংসদীয় আসনে আজ সকাল থেকে একযোগে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই জেলার সকল ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোনো প্রকার বিরতি ছাড়া বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলার পর অবশেষে চলছে গণনা। সকালে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ভোটারদের পাশাপাশি পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই জেলায় এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নারী ভোটার রয়েছেন। তিনটি আসনে এবার মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা ও গুঞ্জন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান লড়াই হবে বড় তিন দল—বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে। তবে লালমনিরহাট-২ আসনে জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার শামীম কামালের প্রার্থিতাও স্থানীয়ভাবে বেশ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, নির্বাচনি এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, বিজিবি র্যাব ফোর্সের সদস্যরা। এ ছাড়াও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মাঠে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনীর চৌকস বিশেষ দল।
জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য আমরা একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। প্রতিটি কেন্দ্র ও এর আশপাশে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন।