প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৩৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে ভক্তদের ঢল

এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রী শ্রী মা ভবানীর মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব। প্রতি বছর মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই পুণ্যতিথি পালিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন পুণ্যস্নান ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিলে পাপ মোচনসহ পুণ্যলাভ হয়। সেই বিশ্বাসে সূর্যোদয়ের পর থেকেই মন্দিরসংলগ্ন শাঁখারি পুকুরে পুণ্যস্নান ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা হাজার হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীর আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে। বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা এখানে সমবেত হন। মন্দির চত্বরে দই-মিষ্টি, চিড়া-মুড়কি, ঝুড়িসহ পূজার নানা সামগ্রীর দোকানে জমজমাট বেচাকেনা দেখা যায়।
মন্দির কমিটির তত্ত্বাবধায়ক অপূর্ব চক্রবর্তী জানান, যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় তিথি অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার ভক্তসমাগম কিছুটা কম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে আগত ভক্ত সুকুমার রায় বলেন, “প্রতি বছর পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে পুণ্যস্নান করতে আসি। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই আমরা এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে আসছি। মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায় এবারও এসেছি।” শেরপুরের স্থানীয় ভক্ত অসীম সরকার বলেন, “মা ভবানীর কাছে প্রার্থনা করে পূর্বে আমার মনোবাসনা পূরণ হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর মায়ের মন্দিরে আসি।”
রাজশাহী থেকে আগত শাঁখা বিক্রেতা সুমতি রাণী হালদার জানান, গত ২৫ বছর ধরে তিনি এই মেলায় নারীদের জন্য বাহারি নকশার শাঁখা বিক্রি করে আসছেন। তবে এবছর তুলনামূলকভাবে বিক্রি কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিষ্টি ব্যবসায়ী রমেশ সাহা বলেন, একদিনের এই মেলায় প্রায় ১০০ মণ দই এবং ১৫০ থেকে ২০০ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়। দই প্রতি সরা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সন্দেশসহ বিভিন্ন মিষ্টি প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উদযাপিত হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, মাঘী পূর্ণিমা উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা দিবাগত রাত পর্যন্ত বহাল ছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবটি সম্পন্ন হয়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.