
এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় বগুড়ার সাবেক পুলিশ সুপার ও সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ বাস্তবায়নে সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রায়ে সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর পাশাপাশি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং রমনা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনজনের সম্পদ জব্দের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা, কর্তব্যে চরম অবহেলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
গত বছরের ১৪ জুলাই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৬ জন সাক্ষী ভিডিও ফুটেজ, ফোনালাপের রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষ বর্ণনার মাধ্যমে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা এই রায়কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।