হোম » সারাদেশ » ডিমলায় প্রেমের প্রেক্ষিতে সেনা সদস্যসহ পাঁচজন আটক, জাপা প্রার্থীর প্রভাবের অভিযোগ

ডিমলায় প্রেমের প্রেক্ষিতে সেনা সদস্যসহ পাঁচজন আটক, জাপা প্রার্থীর প্রভাবের অভিযোগ

মো. লিখন ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধিনীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যসহ পাঁচজনের আটককাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিনের প্রভাব কাজ করেছে।

জানা গেছে, সোমবার (১২ জানুয়ারী) মধ্যরাতে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেনের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন ডিমলা থানায় এজাহার দায়ের করেন। জাতীয় পার্টি প্রার্থীর প্রতিনিধি মো. মাজেদ পাটোয়ারী থানায় এজাহার গ্রহণে পুলিশকে সুপারিশ করেন।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন- সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন (১৯), তার প্রেমিকা মতিরবাজার এলাকার জয়নাল মিয়ার (ছদ্মনাম) উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া কন্যা ও ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গাজিউর রহমান (৫০), আবুল হোসেন (৫৫) এবং নেতা দেলোয়ার হোসেনকে (৪৬) ।
আটক করে।
থানায় মামলা দায়েরের পর বিষয়টির মোড় অস্বাভাবিকভাবে ঘুরে যায় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তাদের দাবি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তছলিম উদ্দিনের নামের সিল ব্যবহার করে তার প্রতিনিধি মো. মাজেদ পাটোয়ারী এজাহার গ্রহণের সুপারিশ করেন।
ভুক্তভোগী জয়নাল মিয়ার পরিবারের দাবি, মেয়ের বাবার করা অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও তাঁর চাচা রোস্তম আলীর দেওয়া অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী মেয়ে জানায়, “আমাদের মধ্যে প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আলী হোসেন আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই আমরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াই। পরবর্তীতে এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।”
এ বিষয়ে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন বলেন, “প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলি এবং বিয়ের প্রস্তাব দিই। ছুটিতে বাড়িতে এসে আমি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। সে সময় এলাকাবাসী ও মেয়েটির ভাই আমাকে আটক করে এবং পরে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি।”
জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন,“আমি বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। ঘটনা জানার পর মাজেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে তার ভুল স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মো. মাজেদ পাটোয়ারী বলেন, “আমি উনার সদস্য সচিব ও নির্বাচনের প্রস্তাবকারী হিসেবে সিলটি ব্যবহার করে আসছি। আমি কোনো ভুল করিনি। আমাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বেইজ্জতি করে আমার কাছ থেকে সিল নিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি।”
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, “আচরণ বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি বা তদবির করতে পারবে না। যদি কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!