প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ

সখিপুর (টাঙ্গাইল ) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখিপুরে লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে ১ জানুয়ারী ২০২৬ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ ( বাসাইল- সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল-এর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী ২৬) মির্জাপুর উপজেলার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মোঃ সুজন মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ গোলাম মাহবুব খাঁন-এঁর আদালতে হাজির হয়ে আইন শৃংঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা অনুযায়ী মামলার আবেদন করেন।
আদালত আবেদন আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা (মির্জাপুর) এর অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। মামলায় সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে আট নম্বরসহ চুয়াল্লিশ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একশত পঞ্চাশ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ।
মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভকে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন- মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারন সম্পাদক তাহারিম হোসেন সীমান্ত, তার ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির, ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।
মামলার বিবরনে আট নং আসামী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকা দক্ষিনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের অন্যতম অর্থের যোগানদাতা হিসেবেও তার নামও শোনা যাচ্ছে শীর্ষস্থানে ।খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয়ভাবে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, সখিপুর ও বাসাইলে উপজেলা হতেও একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি - বেসরকারি ভূমি দখল, জমি দখল , বাড়ি উচ্ছেদ, রাস্ট্রদ্রোহী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলায় অর্থের যোগানদাতাসহ নানান অভিযোগে অভিযুক্ত । অভিযোগ আছে নির্বাচনের আগে সখিপুরে ৩০০ টি মসজিদে ৭৫ লক্ষ টাকা অনুদান বিতরণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬০ লাখ টাকার অধিক অনুদান দেওয়া।
সুতরাং সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল উপরোক্ত নানাবিধ অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার করার প্রস্তুতি চলছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।
তবে সখিপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সখিপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং সখিপুর আবাসিক মহিলা কলেজের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ইকবাল গফুর তথ্য সুত্রে জানা গেছে যে, সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিশ্বস্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী ফজলুল হক বাচ্চু বলেছেন যে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নিবেন।
মামলা সম্পর্কে সালাউদ্দিন আলমগীর -এর বক্তব্য:-
স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব সালাউদ্দিন আলমগীর তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে মন্তব্য করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে আমার কোনো অবস্থান ছিল—এমন অভিযোগ সারাজীবন তপস্যা করেও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা কিংবা ফান্ডিংয়ের প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। কারণ আমি সারা জীবন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিপূর্বে আমার বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।”
শীতবস্ত্র বিতরণ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, “ওই সময়ে দরিদ্র মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্দেশ্যে দেশের প্রায় সব ব্যাংকই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কম্বল প্রদান করেছিলো। মধুমতি ব্যাংকও করেছে।”
নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। আমার ব্যবসা মূলত এক্সপোর্ট ও ব্যাংকিং খাতে। আর ব্যাংকে পার্টনারশিপ নয়, শেয়ারহোল্ডারশিপ থাকে। যেকোনো ব্যক্তি শেয়ার কিনে শেয়ার হোল্ডার হতে পারে। ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়—যা সম্পূর্ণ অসত্য।”
মামলার বাদী সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী মোঃ সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন; তিনি গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক।”
তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এতো দিন নির্যাতিত হতো তারা এখন দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রার্থীকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।