
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার–নাগরপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন তারেক শামস খান হিমু। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভায় তাকে সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিতভাবে প্রকাশ করা হয় এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রত্যয়নপত্রে তারেক শামস খান হিমুর বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, তিনি ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজেপির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তারেক শামস খান হিমুর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ও নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে তার ছাত্র–জনতার আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি উল্লেখ করে একটি পৃথক প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ্যে আসে।
সাপ্তাহিক চিন্তা ও তৎপরতা পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ মজহার স্বাক্ষরিত ওই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তারেক শামস খান হিমু ছাত্র–জনতার পক্ষে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারেক শামস খান হিমু বলেন, “আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আব্দুল বাতেনের হরিণ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার কারণে তৎকালীন সময় আমাকে ১ম বার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতিপক্ষ হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। ওই সময় আমার কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অনুসারীদের দ্বারা হামলা, প্রচার মাইক ভাঙচুর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, তারেক শামস খান হিমু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার–নাগরপুর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।