
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় লোটো শোরুমের ম্যানেজার পিন্টু আকন্দ (৩৮) হত্যা মামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী মো. সজিব (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-৭ সিপিএসসি চট্টগ্রামের যৌথ অভিযানে তাকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, নিহত পিন্টু আকন্দ গত প্রায় তিন বছর ধরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানাধীন সিও অফিস মোড় সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটে তৌফিক এলাহী সুজনের মালিকানাধীন একটি লোটো শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করার সময় অজ্ঞাতনামা ৬–৭ জন দুষ্কৃতিকারী শোরুমে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা পিন্টুকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে শোরুমের সামনে থাকা একটি সাদা রঙের HIACE মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় পিন্টুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতিকারীরা দ্রুত নওগাঁ সড়কের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ ১৫-৩২৬৮। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি থানার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ এলাকায় একটি পাকা সড়কের পাশে উক্ত মাইক্রোবাসে পিন্টুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের নাক ও মুখে সাদা স্কচটেপ লাগানো ছিল এবং তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ধারণা করা হয়, ২২ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫০ মিনিটের আগেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৪, তারিখ: ২৩/১২/২০২৫, ধারা: ৩৬৪/৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০)।
ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকলেও র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির একপর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে মো. সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পিতা মো. শাহাবুদ্দিন মন্ডল, বাড়ি ডিম শহর, থানা দুপচাঁচিয়া, জেলা বগুড়া।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।