
পিরোজপু প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারকে এ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন।
এই ঘোষণার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে নাজিরপুর উপজেলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন মাঝির নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এ সময় শ্লোগানে শোনা যায় ছাগল দিয়ে হালচাষ চলবে না, চলবে না, মানি না, মানবো না।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বেলায়েত হোসেন মাঝি বলেন,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে মোস্তফা জামাল হায়দারকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে—এমন খবর আমরা পেয়েছি। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও হাইকমান্ডকে নির্দেশ দিচ্ছি—এই প্রার্থী পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে অনেক যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী দিতে হবে। নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও ইন্দুরকানীর সাধারণ জনগণ এই সিদ্ধান্ত মানে না।
আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ আমরা ঢাকায় যাবো। আগামীকাল কর্মসূচি শেষ করে পিরোজপুর জেলা বিএনপি যে কর্মসূচি ঘোষণা করবে, আমরা তা পালন করবো ইনশাআল্লাহ। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দলের প্রার্থী ঘোষণা না করা হবে, ততদিন আমরা ঘরে ফিরবো না।বক্তব্যের শেষে তিনি পুনরায় ধানের শীষের প্রার্থীর দাবি জানান।
এদিকে, একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতা হয়ে প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডকে নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নেতৃত্ব কাঠামো উপেক্ষার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নানা সমালোচনা উঠেছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রকাশ্য বিক্ষোভ ও বক্তব্যের ঘটনায় হাইকমান্ডের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অভিযোগ এনে সচেতন রাজনৈতিক মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।