হোম » সারাদেশ » পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় ভেড়ামারায় চাষীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে 

পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় ভেড়ামারায় চাষীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে 

জাহিদ হাসান ঃ 
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বন্যার ক্ষতি পূরণ করতে চরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর ভালো ফলনের আশা তাদের। এদিকে সরকার বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকরা । ভেড়ামারা  উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে মালি পাড়া, গোসাই পাড়ার পদ্মার বিষ্টীর্ণ চরে কৃষকরা মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে করছে। চলতি মৌসুমে ২৫৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এখন পেঁয়াজ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ মন ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া  এলাকার কৃষক আরিফুল  ইসলাম বলেন, গত বছর ২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম, তাতে অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ক্ষতি পোষাতে আমি ৩৫ বিঘা জমিকে পেঁয়াজ  লাগিয়েছি পেঁয়াজের ফলনও ভালো হয়েছে। গত সপ্তাহে ১ বিঘা জমির পেঁয়াজ  উত্তলোনের সময় দাম ভালো ছিলো। হঠাৎ সরকার বাহির থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে গেছে। ৩৫ বিঘা জমিতে সব মিলে খরচ হয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের যা দাম তাতে করে ১৫ লক্ষ টাকা লোকশান হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এই পেঁয়াজ লাগিয়েছি। এখন ব্যাংক লোন পরিশোধ করবো কিভাবে  বুঝতে পারছি না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি দুই মাস বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করলে, কিছুটা হলেও লোকসানের হাত থেকে বাঁচতাম। আর এমন হলে আগামীতে আর পেঁয়াজ চাষ করবো না।
এবছর  একই এলাকার অপর কৃষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমিও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে এ বছর ১০ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বীজের দাম কিছুটা বেশি। সার ও কীটনাশকের দামও দ্বিগুন।  এবার ১ বিঘা মুড়িকাটক পেঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা। এখন বাজারে পেঁয়াজের যে দাম তাতে করে অনেক টাকা ক্ষতির আশঙ্কায় আছি। পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে কিন্তু বাজারে দাম নাই। এমন হলে আমাদের মরা ছাড়া গতি থাকবে না।
কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে। সরকার বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করলে লাভ হয়তো। কিন্তু বর্তমান বাজারে  পেঁয়াজের যে  দাম তাতে করে অনেক টাকা ক্ষতি হবে।
সবজি ব্যবসায়ী আবুল হাই জানান, আমরা দেশি পেঁয়াজ ক্রেতার কাছে বিক্রয় করছি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। ভারতের এলসি পেঁয়াজ ৪০ টাকা করে বিক্রয় করছি। কয়েকদিন ধরে দিনে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা করে কমে যাচ্ছে।
ভেড়ামারা  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা  জানান, চলতি রবি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে ২৫৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজ উৎপাদন ভালো হয়েছে।  আর ক’দিন পরেই কৃষক মসলা জাতীয় অর্থকরী ফসল ঘরে তুলবে। পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দামটা কিছুটা কম।
ভেড়ামারা উপজেলার কৃষকদের দাবি সরকার দুই মাস বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করলে। আমরা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতাম।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!