
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বাড়ছে ঠান্ডার প্রকোপ, অসহায় হচ্ছে মাঠে খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৯শতাংশ। এদিন সকাল থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হালকা কুয়াশা ছিল, মেলেনি সূর্যের দেখা। আদ্রতা বেশি থাকায় ঠান্ডার অনুভূতি ছিল অত্যান্ত তীব্র।
এর আগে গত রোববার ও সোমবার (১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়ার। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস আবার রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কালদাসপাড়া গ্রামের জেলে সুসিল দাস ও দুলাল দাস বলেন, তারা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েকদিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় সকাল সকাল ঘর থেকে বের হতে পারছেননা তারা। জীবিকা নির্বাহে তাদের দুপুরের দিকে বের হতে হয়। তাদের দাবি গরীব, দুঃস্থ ও অসহায় এবং বয়োবৃদ্ধ লোকদের মাঝে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ করার।
এ ব্যাপারে উপজেলার তেঁতুলিয়া ১ম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের টেলিপ্রিন্টার অপারেটর(টিপিও) আব্দুর রশিদ বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই উপজেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ১২ ঘর থেকে একটু বেড়েছে, তবে এর ফাঁকে গত ২০ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ১৪ ঘরে উঠেছিল। বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি রয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।