
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রকৃত ওয়ারিশদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে একটি পালিত পুত্রকে ওয়ারিশ দেখিয়ে জমিজমা লিখে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলম মৃত্যুকালে প্রায় ১৩৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন। তার স্ত্রী আমেনা খাতুন চমনের নামে রয়েছে আরও ৪০ শতাংশ জমি। জীবদ্দশায় মাহাবুব আলম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১০২ শতাংশ জমি বিক্রির চুক্তি করেন। তবে জমির দলিল সম্পাদনের আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মাহাবুব আলমের মৃত্যুর পর তার বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে রয়েছেন স্ত্রী আমেনা খাতুন, একজন সহোদর বোন, তিনজন বৈমাত্রেয় বোন এবং দুইজন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের ছেলে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব বৈধ ওয়ারিশকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে একটি পালিত পুত্রকে একমাত্র ওয়ারিশ দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রি ও হস্তান্তরের পাঁয়তারা চলছে।
মৃত মাহাবুব আলমের এক বোন বলেন, “আমরা সবাই জীবিত ও বৈধ ওয়ারিশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের না জানিয়ে পালিত ছেলেকে ওয়ারিশ বানানো হচ্ছে। এটা স্পষ্টভাবে আইন লঙ্ঘন।
আরেক বৈমাত্রেয় বোন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভাই বেঁচে থাকতে কখনো পালিত ছেলেকে ওয়ারিশ ঘোষণা করেননি। মৃত্যুর পর এভাবে সম্পত্তি লিখে দেওয়া সম্পূর্ণ জালিয়াতি।
মাহাবুব আলমের বৈমাত্রেয় ভাইয়ের এক ছেলে বলেন, আমরা ন্যায্য উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এভাবে দলিল হলে আমরা সর্বস্ব হারাবো। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দলিল সম্পাদনের আগেই বিক্রেতার মৃত্যু হলে সেই জমি হস্তান্তর আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তার ওপর প্রকৃত ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে পালিত পুত্রকে মালিক বানানোর চেষ্টা গুরুতর অপরাধের শামিল।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওয়ারিশরা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বরাবর একটি আবেদন করেন, সেখানে উল্লেখ করেন, চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর মৌজার জেএর নং-০২০,বিএস খতিয়ান ৩৭৬, খারিজ খতিয়ান -২৫-৬৬৫ পালিত পুত্র আবু সাইদের নাম কর্তনের জন্য একটা অভিযোগ দায়ের করেন, যাহা বর্তমানে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে তদন্তদিন রয়েছে।
পরবর্তীতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্ত চলাকালীন আমেনা খাতুন চমন সকল ওয়ারিশ বাদ দিয়ে এবং তাদেরকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে পালিত আবু সাইদ কে নিয়ে একটা হেবা দলিলের রেজিস্ট্রি করেন যাহার নং- ৫৪৪৯/২৫, উল্লেখ্য ঘটনাবলি উল্লেখ করে লিখিত ভাবে, সাব রেজিস্টার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এবিষয়ে আবু সাইদ জানান, আমার বাবার কোন সম্পত্তি আমি নেইনি, আমার মায়ের ৪০ শতাংশ জমি আমাকে মা লিখে দিয়েছে। বাবার সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, আদালতের রায়ের পড়ে আমরা ব্যাবস্থা নিব।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২