
রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ায় অবৈধভাবে সার মজুত করার অপরাধে সার ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৭) কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রুহিয়া বাজারে মৃত লতিফ চেয়ারম্যানের মার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশাদুল হক। জিয়াউর রহমান জিয়া রাজাগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকার মোঃ ইসমাইল হোসেন এর ছেলে।
অভিযানে জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাড়া করা দুটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুতকৃত সার উদ্ধার করা হয়। ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্টের অভিযানে গোডাউন ঘর থেকে ৫৫ বস্তা টিএসপি এবং ২৭৫ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে এসব সার অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ও ১২(৩) ধারায় এবং মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী জিয়াউর রহমান জিয়াকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জব্দকৃত সার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আবু আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদের তত্ত্বাবধানে ন্যায্য মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি নির্ধারিত কোডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশাদুল হক।
গোপন সংবাদ তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশাদুল হক জানান, সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট কিংবা কালোবাজারি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে সারসংক্রান্ত কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।