প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৪:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

টঙ্গী প্রতিনিধি: গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে বিএনপির বর্তমান মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর-৬ আসন বিলুপ্তির ফলে ভোটার বাস্তবতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও নির্বাচনী সক্ষমতার যুক্তিতে মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন বক্তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে গাজীপুর-৬ আসন বাতিল হয়ে পূর্বের গাজীপুর-২ আসনে ফিরে আসায় এই আসনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বাস্তবতায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে গাজীপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ, যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও চ্যালেঞ্জিং আসনে পরিণত করেছে। থানা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, গাছা থানার ৭টি ওয়ার্ডে ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ জন এবং পূবাইল থানার আংশিক অংশে (ওয়ার্ড-৩৯) ভোটার ১৩ হাজার ২৮৬ জন। অর্থাৎ গাছা ও পূবাইল মিলিয়ে ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৫ জন। অপরদিকে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার ১৫টি ওয়ার্ডে ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৯ জন এবং মেট্রো সদর থানার ১৩টি ওয়ার্ডে ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে কাউলতিয়া এলাকার চারটি ওয়ার্ডে ভোটার মাত্র ৭৩ হাজার ৭৩৮ জন। এতে স্পষ্ট হয়, গাজীপুর-২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকায় বসবাস করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায়, যখন গাজীপুর-৬ আসন বহাল ছিল এবং টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল আলাদা সংসদীয় আসনের আওতায় ছিল। নতুন বাস্তবতায় সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বক্তারা স্পষ্ট করেন, এটি কোনো ব্যক্তি বিরোধিতা নয়, বরং দলীয় স্বার্থ, ভোটার প্রতিনিধিত্ব ও বিজয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
তারা আরও বলেন, টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল একটি অভিন্ন নগর বাস্তবতার অংশ। অতীতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগে এই এলাকাগুলো টঙ্গী পৌরসভার আওতায় ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে একই সামাজিক-রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে এ আসনের নেতৃত্বও অধিকাংশ সময় টঙ্গী কেন্দ্রিক ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও টঙ্গী থেকে নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে।
এ সময় বক্তারা আন্দোলন-সংগ্রামে গাজীপুর এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বহু নেতাকর্মী জেল-জুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট নেতারা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকার সাংগঠনিক মতামত গুরুত্ব সহকারে শোনা হোক। প্রয়োজনে বর্তমান মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে এমন প্রার্থী মনোনীত করা হোক, যিনি এ বৃহৎ প্রতিযোগিতামূলক আসনে সর্বোচ্চ ভোট সংহত করে বিএনপিকে বিজয়ের পথে নিতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন সরকার, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আফজাল হোসেন কায়সার, মাহবুবুল হক গোলাপ, আক্তারুজ্জামান, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে এমপি পদে বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সালাহ উদ্দিন সরকার এবং মেয়র পদে আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকারের প্রতি সম্মিলিত সমর্থন করা হয়। এ সময় বিএনপি নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি, শেখ মোঃ আলেক, জসিম উদ্দিন দেওয়ান, যুবদল নেতা সৌমিক সরকার সহ বিএনপির মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.