
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দল, এলজিইডি, সমবায় অধিদপ্তর, সমাজসেবা কার্যালয়, বিআরটিসি, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ একে একে বিজয় সৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। এদের হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিজয় সৌধে শ্রদ্ধা ও ফুলের পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে। এতে ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদদের বেদী।
সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বইয়ে পড়েছি। আজ আমি পরিবারের সাথে প্রথম বিজয় সৌধে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম।।
শহরের সয়াধানগড়া মহল্লা থেকে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যাদের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই বিজয় সৌধে আসি। তাই এবারও এসে বীর শহীদদের ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়েছি।
হৈমবালা স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ করছি বিজয় সৌধে এসে। এই দিনটি আমাদের গৌরবের দিন। তাই দেশের জন্য আত্মদানকারী সেই সব বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যহীন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রচিত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সকাল ৮টা থেকে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ শামসুদ্দিন স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা অবমুক্তকরণ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত প্রদর্শন ও পুরস্কার বিরতণ করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীবৃন্দ, পুনাক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে কুচকাওয়াজ, শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লেতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।