হোম » সারাদেশ » বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তকরিকুল ইসলাম

বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তকরিকুল ইসলাম

এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ আমি তকরিকুল ইসলাম,পিতামোঃ আলাল উদ্দিন, সাং শেরপুর, বগুড়া।  শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি। ‎আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন আমার স্ত্রী আলিফা, আমার ভগ্নিপতি আমিনের মেজ ভাই রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী, আমিনের মেজ শালিকা আশা এবং মোঃ রেজাউল ইসলামসহ অন্যান্যরা।

‎সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো তথাকথিত সাংবাদিক আমিন ইসলাম ও তার পরিবারের নির্যাতন, হুমকি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আমরা যেন নিরাপদে বাঁচতে পারি সে বিষয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করা।

‎বগুড়া শহরের গোদারপাড়া এলাকায় অবস্থিত আব্দুল জলিল দুধু মার্কেট, যা বর্তমানে গোলাম রসুল মার্কেট নামে পরিচিত। উক্ত মার্কেটের পূর্বের মালিক ছিলেন আমার শ্বশুর আমিনুর ইসলাম। তিনি জীবদ্দশায় আমাদের তিন ভাইয়ের নামে কয়েকটি দোকানঘরের পজিশন হস্তান্তর করেন এবং তার তিন কন্যার নামেও একটি করে দোকানঘরের পজিশন প্রদান করেন, পরবর্তীতে আমরা বৈধ মালিক হিসেবে একটি দোকানঘর আমার বড় ভগ্নিপতি আমিন ইসলামের কাছে বিক্রি করি। সে সময় পর্যন্ত আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। এরপর আমিন ইসলাম আমার শ্বশুরের কাছ থেকে পুরো ভবনের কেবল কবলা মালিকানা ক্রয় করেন – এই শর্তে যে, পূর্বের পজিশন মালিকরা নিজ নিজ অবস্থানে বহাল থাকবেন।

‎কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি অন্যান্য পজিশন মালিকদের দোকানের দখল বুঝিয়ে দিলেও আমাদের দোকানঘরের দখল আজও বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে।

‎এরই ধারাবাহিকতায় তথাকথিত সাংবাদিক আমিন ইসলাম আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে—

‎“তোরা আমাকে চিনিস? আমি সাংবাদিক, থানায় আমার অনেক ক্ষমতা। তোদের নামে যেকোনো সময় মামলা দিয়ে দেব।”

‎এর ফলশ্রুতিতে গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আমাকে এবং আরেক পজিশন মালিক মোঃ রেজাউল ইসলামকে আসামি করা হয়। অথচ মামলার বাদীর সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই।

‎আমরা যখন বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং জানতে চাই কীভাবে আমাদের নাম মামলায় এলো, তখন বাদী স্পষ্টভাবে জানান—তিনি আমাদের চেনেন না এবং মামলায় আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কিছুই জানেন না। বাদী আরও জানান, একজন সাংবাদিক তাকে থানায় মামলা করতে সহায়তা করেছেন।

‎খোঁজ নিয়ে আমরা নিশ্চিত হই যে, উক্ত সাংবাদিক আমিন ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তখন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পরিকল্পিতভাবে আমাদের হয়রানি করার জন্য এই মামলায় আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে।

‎বর্তমানে আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—যদি আমরা তাদের সঙ্গে আপস না করি, তাহলে আরও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে।

‎এই পরিস্থিতিতে আমরা বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি তথাকথিত সাংবাদিক আমিন ইসলাম ও তার পরিবারের হয়রানি, হুমকি ও ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের রক্ষা করা হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

‎শনিবার এ বিষয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমি এই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছি।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!