
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানঃ
গতকাল ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এবং আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব নিয়ে একটি পোস্ট করেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মুখপাত্র ও সাবেক সাংসদ মাহী বি চৌধুরী যা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টটি পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নেওয়া হচ্ছে। জাতির এই গভীর বেদনাবিধুর মুহূর্তে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য আমরা সকলেই দোয়া করি।
তারেক রহমান যে অঙ্গীকার উচ্চারণ করেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”—এটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতা।
১৯৭১ সালে এক তরুণ মেজর জিয়া তাঁর পরিবার, ছোট সন্তান কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা ভাবেননি—তিনি দেশকে বেছে নিয়েছিলেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছিল।
আজ বাংলাদেশ আবারও এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে। সামনের কয়েক সপ্তাহেই এই দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পথরেখা ও জাতির ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
১৯৭৫ সালে জনগণ ও সৈনিকেরা জিয়াউর রহমানকে তুলে এনেছিল এক জীবনঘাতী রাজনৈতিক অগ্নি পরীক্ষার কেন্দ্রে। সেখানে তিনি শুধু একজন সেনা কর্মকর্তা, স্বামী বা পিতা ছিলেন না—তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক নেতা, যিনি সাহস, প্রজ্ঞা এবং কর্তব্যবোধ দিয়ে একটি বিপর্যস্ত জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিয়েছিল।
আজ ইতিহাস তাঁর ছেলেকেও একই অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এখন তাঁর প্রয়োজন ব্যক্তিগত পরিচয়, আবেগ ও সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একজন জাতীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। কথায় নয়—কর্মে প্রমাণ করতে হবে, “সবার আগে বাংলাদেশ।”
রাজনৈতিক নানা কারণে আমাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে—এটি সকলেরই জানা। এসব কারণ এখানে আলোচ্য নয় এবং হওয়া উচিতও নয়।
কিন্তু জাতির এই সংকটময় সময়ে প্রত্যাশা একটাই— যেমন তাঁর পিতা কঠিনতম মুহূর্তে জাতিকে বাঁচাতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তেমনি তিনিও যেন দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে ইতিহাসের আহ্বানে সাড়া দেন।
বাংলাদেশ আজ নেতৃত্ব, সাহস এবং সত্যিকার দেশপ্রেমের অপেক্ষায়।আল্লাহ আমাদের দেশকে হেফাজত করুন।
সবার আগে বাংলাদেশ।