
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে “বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন(বিজেএমসি) এর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গতকাল ১৯ নভেম্বর,বুধবার বিকাল চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খাজার সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন খান।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বিএনপির প্রয়াত ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের একমাত্র সন্তান মোঃ সাঈদ আল নোমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট মিলস্ কর্পোরেশন-বিজেএমসির আওতায় ২৫টি জুট মিল চালু ছিলো। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার বিশ্বের পাটজাত পণ্যের বাজার ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিজেএমসি পরিচালিত ২৫টি জুট মিল-ই ২০২০ সালের ১লা জুলাই তারিখে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করে দেয়।ফলে ,পাট শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কৃষক ,শ্রমিক, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী,দোকানদারসহ লাখ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পথে বসে।আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
সকল অপকর্ম ও দুর্নীতির বড় হোতা হিসাবে তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং বিদায়ী পাট সচিব আব্দুর রউফকে আখ্যায়িত করে তিনি আরো বলেন, বিজেএমসির মালিকানাধীন ৩২৪ একর জায়গা স্থাপনাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিনামূল্যে দিয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের মাধ্যমে ৭টি মিল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। সেই মিলগুলোর জমির পরিমাণ ১৯৭.৮৬ একর।এ বাবদ প্রাপ্ত সকল অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।অথচ বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলগুলোর ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ১১০ কোটি টাকা আজো পরিশোধ করা হয়নি।
তিনি বলেন,দেশ ও জাতির স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার ও তার আজ্ঞাবহ দোসররা মনগড়া পলিসি তৈরি করে ১৩/১৪টি পাটকল নামমাত্র মূল্যে ৩০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে লিজ প্রদান করে। যেখানে উৎপাদনরত চালু মিলে স্বাভাবিক গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে ১ মাস সেখানে লিজকৃত মিলগুলোর গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয় ৯ মাস। পরবর্তীতে লিজ গ্রহীতাদের সাথে যোগসাজশে গ্রেস পিরিয়ড ৯ মাসকে ৩০ মাসে উন্নীত করা হয় যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর , ভারতের র’ এর এজেন্ট জুট মিল বন্ধের কারিগর আব্দুর রউফ ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন।মিল বন্ধের পুরস্কারস্বরূপ ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করে।সচিব হয়েই সে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠে।তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীতার দোসর না হওয়ায় মাত্র ২ বছরে ৫ জন চেয়ারম্যানকে সে বদলি বা ওএসডি করেছে । অত্যন্ত দুঃখের সাথে তিনি যোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট হাসিনার প্রেতাত্মা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ঢাকা শহরে বিজেএমসির একমাত্র প্রতিষ্ঠান করিম চেম্বার নামমাত্র মূল্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে বিনামূল্যে দেয়ার চক্রান্ত করছে। ইতিমধ্যেই আপনারা অবগত আছেন যে,পাট মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দল ৮ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায়,বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ জুট মিলস্ কর্পোরেশন-বিজেএমসির মূল্যবান সম্পদের উপর এ ধরনের অশুভ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি দলের পক্ষ থেকে জোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শ ম জামাল উদ্দিন, মোঃ ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন এপোলো প্রমূখ।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ