কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মার চরে আখ চাষ করতে যাওয়ার সময় ছোট মাছ ধরা ডুঙ্গা নৌকা ডুবে দুই জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ই নভেম্বর) সকাল ৭টার সময় উপজেলার মোকারিমপুর ইউপির ইসলামপুর ঘাট এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোকারিমপুর ইউপির ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে রশিদ (৫৮) ও শরাফত প্ররামানিকের ছেলে মামুন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার চার জন কৃষক রশিদ, মামুন, শরিফুল ও ইউসুফ ছোট মাছ ধরা ডুঙ্গা নৌকাযোগে সকালে ইসলামপুর ঘাট থেকে পদ্মা নদী দিয়ে বাহাদুরপুর ঢাকার চরে আখ চাষের জন্য যেতে ছিল। হঠাৎ নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এসময় শরিফুল ও ইউসুফ সাঁতারে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও রশিদ ও মামুন পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা অনেক খোঁজা খুজির পরে নদী থেকে উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাণে বেঁচে ফেরা শরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো মামুনের জমিতে আমরা আখ লাগানোর জন্য রওনা হয়। জমি নদীর অপরপ্রান্তে হওয়ায় ছোট ডুঙ্গা নৌকা দিয়ে পারাপার করি, আজকেও অন্যদিনের মতো চারজন পার হচ্ছিলাম। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ ডুঙ্গা সামান্য কাত হয়ে পানি উঠতে থাকে। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডুবে যায়। যে যার যার মতো প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করতে থাকি। হঠাৎ আমি পায়ের নীচে মাটির স্পর্শ অনুভব করি এবং কোন রকম নদীর তীরে উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম রনি জানান, দূর্ঘটনা শোনার সাথে সাথে সেখানে উপস্থিত হয় এবং যা জানতে পারি তা সত্যি খুব মর্মান্তিক ঘটনা। একি সাথে একই গ্রামের দুই জনের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক বিরাজ করছে। নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বাভাবিক মৃত্যু ঘোষণা করায় তাদের স্বাভাবিক নিয়মেই দাফনের ব্যবস্থা করছি।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার জানান, যেহেতু নদীতে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাই বিষয়টি ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা নৌপুলিশ তদারকি করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ ইমরান হোসেন জানান, আমরাও নদী পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, ওদের পরেই আমরা যাবো। কিন্তু ওরা কিছুদূর যেতেই ছোট নৌকাটা হঠাৎ দুলতে দুলতে কাত হয়ে ডুবে যায়। আমি-সহ কয়েকজন দ্রুত ঝাঁপ দিয়ে তাদের মধ্যে মামুন ও রশিদ চাচাকে উদ্ধার করি। রশিদ চাচা-সহ দু'জনের অবস্থায় খুব খারাপ ছিল।
ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা নৌপুলিশের অফিসার ইনচার্জ জানান, তারা চারজন একই নৌকায় যাত্রা করছিল। নৌকাটি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। চারজনের মধ্যে রশিদ ও মামুন সাঁতার জানতো না। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ গুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।