
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, মাছড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি বেশি দাম পাওয়ায় খুশি হয়েছেন চাষীরা।
এবার বিভিন্ন জাতের আখ চরাঞ্চলসহ কাজিপুর, বেলকুচি, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশি চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই আখ মাড়াই করে নতুন গুড় বাজারেও উঠেছে। প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভ্রাম্যমান ভ্যানের উপর মেশিনে ভাঙ্গানো আখের রস শহর-বন্দরসহ বিভিন্ন যানবাহনেও বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গ্লাস রস এখন ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এতে যেমন কৃষকেরাও লাভবান হচ্ছে, তেমনি আখ বিক্রেতারাও লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, প্রায় ৩ যুগ আগে এ জেলার অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলের জমিতে নানা জাতের আখ চাষ হতো। এসব আখ মাড়াই করে রস জাল করে গুড় তৈরীর ধুম পড়তো এবং হাট-বাজারে খোলা ও ডিমা গুড় বিক্রি হতো অবাধে। এ চাষে খরচ বাদে লাভের অঙ্কও ভালো ছিল।
কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া চরের আবুল কাশেম বলেন, এরার ২৫ শতক জমিতে চারা, সার, কীটনাশক, জমিচাষ, শ্রমিকসহ আমার সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে ২৫ শতক জমিতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার আখ হবে। সে অনুযায়ী প্রতিপিস আখ ১২ টাকা পিস হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবো। এবার উৎপাদন ব্যয় উঠিয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা চরের আখ চাষী আলী হোসেন বলেন, এরার ৪০ শতক জমিতে চারা, বাবদ সার, কীটনাশক, জমিচাষ, শ্রমিকসহ আমার সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। বর্তমানে ৫০ শতক জমিতে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার আখ হবে। প্রতিপিস আখ ১২ টাকা পিস হলে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবো।
একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেনসহ অনেকেই বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার আখের দাম বেশি। প্রতি বিঘায় আখ চাষ করতে আমাদের ব্যয় হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বর্তমানে আখের যা ফলন সে হিসাবে এবার উৎপাদন ব্যয় উঠিয়ে দ্বিগুণ লাভ করতে পারবো।
আখ চাষীরা আরো বলেন, বর্তমানে ১ ডিমা (৩ পোয়া) গুড় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খাঁটি গুড় দেড়শ থেকে ২০০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিনি ও আটা মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছে। এই কারণে আমরা প্রকৃত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বাজার মনিটরিং জোরদার করেছে আখ চাষীরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ.কে.এম. মঞ্জুরে মওলা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই কারণে লাভজনক এ আখ চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, কৃষকদের আখ চাষের জন্য সকল ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে এবার কম খরচে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে।