প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১, ২০২৫, ২:০১ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় এনজিওর দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ

রায়হানুল ইসলাম,বগুড়া: বগুড়ায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে সমবায় সমিতি বা এনজিওর নামে দাদন ব্যবসা। বৈধতা না থাকলেও অনেক এনজিও বহাল তবিয়তে এই কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বগুড়ায় বি,কে,ইউ,এস,এস নামে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) পরিচালক দম্পতির বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে অন্ধ ভিক্ষুক পর্যন্ত— সবাইকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করে উধাও হয়ে যায় এই প্রতারক চক্র।
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিলহামলা এলাকার বি,কে,ইউ,এস,এস (রেজিঃ ১০১-২০১৯)এনজিওর পরিচালক মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠছিল। অবশেষে শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই শতাধিক সদস্যের কাছ থেকে তারা বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্প ও ঋণ প্রদানের কথা বলে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন —
বাবলু ফকির, যিনি এনজিওটিতে জমা দিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা;
জাকির হোসেন ১০ লাখ,
আজিম উদ্দিন ৭ লাখ,
অন্ধ ফজলু মিয়া ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, যারা চাতালে কাজ করে দিনাতিপাত করেন — তারাও জীবনভর সঞ্চিত অর্থ জমা দিয়েছিলেন ওই এনজিওতে।
টাকার শোকে স্টোক করা এক বৃদ্ধ জানান,
“আমরা ভাবছিলাম ঋণ পাবো, চিকিৎসা করবো... কিন্তু এখন সব শেষ। আমাদের কষ্টের টাকাও গেল, শান্তিও গেল।”
প্রতারক মশিউর ও তার স্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার না করলেও স্থানীয়দের দাবি — আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না দেওয়ার জন্যই তারা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল।
স্থানীয়রা আরও জানান, উল্টো তাদের ভয় দেখাতে দম্পতি একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে । যে মামলায় ৭ জন গ্ৰাহককে হয়রানি করা হচ্ছে।
এরিপোর্ট দেখা পর্যন্ত সর্বশেষ জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রতারণার শিকার সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।”
স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.