প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ২:৩২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৫, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
মোল্লাহাটে ইউনিয়ন ভূমি অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।

মোল্লাহাট(বাগেরহাট)প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার মালেক মোড়লের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি,ঘুষ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালাল চক্রে দৌরাত্মে সেবা প্রার্থীরা রীতিমতো অসহায়।
উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত বিভাগীয় কমিশনার খুলনা বরাবর লিখিত এক অভিযোগে জানা যায়, সরকারি, বেসরকারি, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী কেহই ছাড় পাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত ফি ১১০০ টাকা হলেও নামজারি করাতে সাধারণের গুনতে হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা উক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম (৫২),সাকিরুল (৫০), তাইজুল ইসলাম (৬২), কালিম মোল্লা (৪২),নাদিম (৩৮), সহ ১০-১২ জন ইনকিলাবসহ অন্যান বেশ কয়েকজন প্রতিনিধীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমরা সঠিকভাবে সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। নামজারির জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসার মালেক মোড়ল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন। টাকা ছাড়া আবেদন করলে নানা রকম ভুল দেখিয়ে আবেদন খারিজের সুপারিশ করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নায়ক কে টাকা দিয়ে নামজারি করাতে হয়েছে। অফিসের পিওন থেকে কর্মকর্তা কর্মচারী সকলে মিলে মিশে দুর্নীতির জাল বিছিয়ে রেখে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
তারা আরো বলেন, জমির খাজনা দিতে স্থানীয়রা নিরু উৎসাহিত হচ্ছেন। খাজনা দিতে গেলে নায়েব সাহেব তার কম্পিউটার অপারেটরকে দেখিয়ে দেন। কম্পিউটার অপারেটরকে ঘুষ না দিলে ১৯৬২ সাল থেকে ২০২৫ সন পর্যন্ত মোটা অংকের টাকা বকেয়া দেখিয়ে ঘুষ দাবি করেন। ৫-১০ হাজার ঘুষ দিলে ঘুষ দিলে সর্বশেষ ৪-৫ বছরের খাজনা বকেয়া পরিশোধ করে দাখিলা কেটে দেন।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের কাছে তদারকি এবং তদন্তের দাবি করেছেন। তারা চান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)এর শক্তিশালী অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তদন্তের উচ্চতর স্তর নিশ্চিত ও জনগণের আস্থা ফেরাতে ভূমি অফিসার কে সাময়িক বরখাস্তের দাবি জানানো হয়। তারা আরো বলেন অভিযোগ অকার্যকর হলে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার মালেক মোড়ল বলেন, অভিযোগকারীদের আমি চিনি না। আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে কৈউ এসব কাজ করেছেন। খাজনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কম্পিউটারে খাজনা কম বেশি করার সুযোগ নেই, সব মিথ্যা।
এ বিষয়ে সরকারি কমিশনার (ভূমি)সুস্মিতা সাহা জানান আমরা একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু' পক্ষের শুনানি ও তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.