প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৩:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৪, ২০২৫, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে কিশোর দিনমজুরকে ‘চোর’ অপবাদে ডেকে নিয়ে হত্যা: ঝুলছিল গাছে মরদেহ

মোহাম্মদ হানিফ: নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মোহাম্মদ জাফর (১৮) নামে এক কিশোর দিনমজুরকে চুরির অভিযোগে ডেকে নিয়ে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিহত কিশোরকে প্রথমে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে দেখলেও, অভিযুক্ত পক্ষ এটিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকার প্রধান সড়কের পাশ থেকে জাফরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত জাফর ওই এলাকার মোহাম্মদ জাকের হোসেনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন।
জানা গেছে, প্রায় ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদের বাড়িতে কাজ করেন জাফর। তবে ৫ দিন আগে কোনো অনুমতি না নিয়েই ওই বাড়ি থেকে চলে যান তিনি। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলে বাড়ির লোকজন। অভিযোগে বলা হয়, জাফর একটি মোবাইল চার্জার, একটি আলমারির চাবি ও নগদ ১,১০০ টাকা নিয়ে গেছেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সোহেল মাহমুদ ও তার সহযোগীরা আলী বাজার এলাকা থেকে জাফরকে জোরপূর্বক ধরে এনে মোটরসাইকেলে করে প্রকল্প বাজার এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে ডেকে পাঠানো হয় তার বাবাকেও। জাফরের বাবা কিছু সময় পরে সেখান থেকে চলে গেলে, জাফরকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
আমি ছেলেকে নিয়ে আসতে গিয়েছিলাম। তখন বলল, পরে ছেড়ে দেবে। সকালে শুনি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। ওরা মারছে, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চানন্দি ইউনিয়ন পশ্চিম শাখা বিএনপির সভাপতি সোহেল মাহমুদ বলেন,আমার সঙ্গে এলাকার একটি রাজনৈতিক গ্রুপের বিরোধ রয়েছে। আমাকে ফাঁসাতে এই নাটক সাজানো হয়েছে। জাফরের বাবার অনুরোধেই ছেলেকে ডেকে আনা হয়েছিল। পরে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।
হাতিয়ার মোর্শেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লেয়াকত আলী বলেন,প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা না বলে হত্যা মনে হচ্ছে। মরদেহে তেমন দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে গলায় যে দাগ পাওয়া গেছে তা আত্মহত্যার ক্ষেত্রে যেভাবে চন্দ্রাকৃতি হওয়ার কথা, তা না হয়ে গোলাকার ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য যাচাই চলছে।
এদিকে ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কিশোর দিনমজুরকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। পুলিশের মতে, এটি ‘আত্মহত্যা’ নয় বরং ‘হত্যা’। অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা দায় অস্বীকার করেছেন, দাবি করছেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, তবে আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকাজুড়ে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.