
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো উলামা মাশায়েখ পরিষদের আয়োজনে এক বিশেষ সিরাত সেমিনার। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বগুড়ার টিটু মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উলামা মাশায়েখ পরিষদ বগুড়া শহর শাখার সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আলমগীর হোসাইন। সেমিনার পরিচালনা করেন শহর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা ড. আবু সালেহ মামুন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও জামিয়া ইসলামিয়া আল আকাবার অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: বেলাল হোসাইন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আরবি ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইউসুফী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. কামরুল হাসান, কারবালা মাদ্রাসা বগুড়ার শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম রাজু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ বগুড়ার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল বাসেত, অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আল আমিন, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকন্দ, মাওলানা সাইদুল ইসলাম ও ড. মাওলানা আব্দুল বারী রশিদী প্রমুখ।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, “আধুনিক ও ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শের বিকল্প নেই। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাই ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রধান দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব আজ আমাদেরও পালন করতে হবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে।”
প্রধান অতিথি মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকার এদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে জনগণের কাছে গিয়ে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার, এবং ভালোবাসা অর্জনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বই পারে এই দেশে আশার আলো জাগাতে।”
ড. কামরুল হাসান বলেন, “সময়োপযোগী নেতৃত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রাসুল (সা.)-এর সংগ্রামী জীবন অনুসরণ করেই কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব।”
মুফতি ফজলুল করিম রাজু বলেন, “দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তির জন্য কুরআন-হাদিসের অনুসরণ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।” অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বই ইসলামী কাফেলার মৌল ভিত্তি। দুনিয়ার লোভ পরিত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।”অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত করেন ক্বারী জুলকারনাইন রায়হান এবং নাতে রাসুল পরিবেশন করেন মো. আব্দুল্লাহ হিসাম।