নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
বছর ঘুরে আবারও সেই সিঁদুরে রাঙা উৎসব, কিন্তু ঢাকের তাল আর শঙ্খের ধ্বনিতে মিশে আছে উৎসব আর বিষাদের সুর। দেবী দুর্গাকে কৈলাসে বিদায় জানানোর মাধ্যমে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাদশমী আজ। দেবীর বিসর্জনের মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ইতোমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে দেবীর বিদায়ের ঘণ্টা।
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোতে শুরু হয় অঞ্জলি প্রদান। ভক্তরা দল বেঁধে এসে অঞ্জলি দেন। একদিকে বিসর্জনের বিষাদ, অন্যদিকে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারী ভক্তরা। জীবনকে রাঙিয়ে তুলতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে দেখা গেছে নারীদের সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ। এ সময় ঢাকের বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে ঘুরে দেখা গেছে,উপজেলার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও ভিজে ভিজেই ভক্তরা পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন। মণ্ডপগুলোতে তখন চলছিল দশমীর বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। পূজারত নারীদের হাতে ছিল অঞ্জলি ও সিঁদুরভর্তি থালা। পূজা-অর্চনার পর কেউ কেউ শেষবারের মতো দেবী দুর্গার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপরই শুরু হয় সিঁদুর খেলা। নারীরা একে অপরের মুখে ও গালে সিঁদুর মেখে শুভকামনা জানান। বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি তরুণী ও শিশুরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। সবাই মিলে স্বামী-সন্তানের মঙ্গল ও সুখের কামনা করেন।
পূজায় আসা দর্শনার্থীরা আশা জানান, “এবার পূজার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। সিঁদুর খেলায় যেন এক ভিন্ন ভালোবাসা প্রকাশ পায়। এই দিনের জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকি। বিজয়া দশমীতে মায়ের বিদায়বেলায় মায়ের আশীর্বাদ নিতে এসেছি। সেই সঙ্গে অতীত জীবনের পাপ মোচন ও অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছি।চ্
এদিকে, প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীতে নৌ-শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই প্রতিমাগুলোকে নৌকায় তোলা শুরু হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে নৌ-শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় নদীতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
এ বছর উপজেলার ৫১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।