প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১২:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫, ৪:১০ অপরাহ্ণ
বাড়িয়া ইউনিয়ন মেম্বার মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে ভাতা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের নিন্দা

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও প্রেগন্যান্সি ভাতা ও টিউবওয়েল প্রদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান খান জানান, স্থানীয় তিনজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে মেম্বার মর্জিনা বেগম তাদের কাছ থেকে সরকারি ভাতা দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন।
গতকাল ইউনিয়ন পরিষদের এজলাসে এ অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন এবং অভিযুক্ত মেম্বার নিজেও অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান বলেন, “আগে নির্ধারিত কয়েকটি তারিখে হাজির না হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এসে অভিযোগ স্বীকার করেন। শুনানির একপর্যায়ে তিনি পরিষদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে সকল জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য করেন। ফলে আমরা বিষয়টি মুলতবি রেখে আগামী ১৪ তারিখে পুনঃশুনানির দিন ধার্য করেছি।
এদিকে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বচ্ছতা ও সততার সাথে কাজ করছি। গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থেকে সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়েছি। একটি কুচক্রী মহল আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য এসব ষড়যন্ত্র করছে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জানান, “এজলাসটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি মামলার নিরপেক্ষভাবে শুনানি হয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফি মাওলানা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও প্রেগন্যান্সি ভাতা ও টিউবওয়েল প্রদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। এর মধ্যে একজনের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা, আরেকজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং আরেকজনের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত মেম্বার নিজে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। তখন চেয়ারম্যান ১নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বারকে বিষটি দেখতে বললে অভিযুক্ত মেম্বার মর্জিনা বেগন উত্তেজিত হয়ে বলেন এই চেয়ারম্যান আপনি আমাকে কি করবেন আমি টাকা নিয়ে খেয়ে ফেলছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া লজ্জাজনক। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং অভিযুক্ত মেম্বার মর্জিনাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.