
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ পারভেজ ভাঙ্গনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে ওই এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নদী পাড় থেকে কেউ ঘরের খুঁটি খুঁলছে, কেউবা টিনের চাল সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সংসাদের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বাড়ি-ঘর ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসা, সদিয়া দেওয়ান তলা সংকর হাটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ৫ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীনের পথে রয়েছে।

ভাঙ্গনে সব কিছু হারানো বয়োবৃদ্ধ আতাহার মন্ডল বলেন, ৭৩ বছব বয়সে প্রায় ২৫ বার আমার বসত ভিটা নদী গর্ভে চলে গেছে। শুক্রবার হঠাৎ করে যমুনার আগ্রাসী থাবায় জীবনের শেষ মুহুর্তেও আমার সব কিছু লন্ডভন্ড গেছে। এগুলো দেখলে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারবে না। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর এলাকায় নদী ভাঙনে অনেক বাড়ি ঘর নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। এখন আমরা যাবো কোথায় ?
সদিয়া দেওয়ান তলা সংকর হাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, নদী ভাঙ্গন স্থান থেকে ৫০ মিটার দুরে অবস্থিত হাই স্কুল কমপ্লেক্স ভবন। এছাড়া অন্তত ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকিতে রয়েছে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন অনিশ্চিতের দিকে। দ্রুত ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে স্কুলগুলো নদী গর্ভে চলে যাবে।
শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, মুহুর্তের মধ্যে ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন দেখে আমরা হতবাক, চোখের সামনে কয়েশ মিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। প্রায় ২৫টি বসত ভিটা নদীতে চলে যাওয়ায় আমরাও আতঙ্কিত। এই চরের আশপাশের অন্তত ১২টি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ বসতি স্থাপন করেছিলো। ভাঙনে সবাই এখন আতঙ্কিত। ক্ষতিগ্রস্ত সকল অসহায় পরিবারকে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ও বেশ কিছু বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।