হোম » সারাদেশ » বাথরুমে‘আল্লাহু’লেখা ও নিজেকে রিজিক দাতা দাবি করা, বিরুদ্ধে আন্দোলন

বাথরুমে‘আল্লাহু’লেখা ও নিজেকে রিজিক দাতা দাবি করা, বিরুদ্ধে আন্দোলন

Oplus_131072

নাটোরের (নলডাঙ্গা) প্রতিনিধি
ফেসবুক পোস্টে সামান্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে,নাটোরের নলডাঙ্গার মাধনগর কারিগড়ি কলেজের, অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামাণিকের নির্দেশে কলেজের অফিস সহকারী ওয়াজেদ আলী,বুধবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহাবুর রহমানের উপর হামলা চালায়।
বিষয়টি ছড়িয়ে পরলে,বিক্ষোভে মাঠে নেমে আসে জনতা। রাতেই কলেজের অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামাণিক ও অফিস সহকারী ওয়াজেদ আলীসহ ৪/৫জনকে বিবাদী করে,চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে নলডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেন,কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহাবুর রহমান।
তাদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার(১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে মাধনগর বাজারে মাধনগরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান,শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের
ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে,কলেজের শিক্ষার্থী,শিক্ষক,বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় বক্তব্য রাখেন,বিএনপি নেতা সামসুল রহমান,মতিউর রহমান,মাধনগর কারিগড়ি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও নলডাঙ্গা উপজেলা জিয়া পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান,কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম,মাধনগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক এনামুল হক,স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ওয়ারেশ মৃধা,ছাত্রদল নেতা রাজন ইসলাম,শিক্ষক রায়হান হোসেন,কামরুল ইসলাম,স্থানীয় এলাকাবাসী জিহাদ,ওয়াদুদ মৃধাসহ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন,অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র,এখনও পতিত আওয়ামীলীগের দাপট দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। এই নয়ন চন্দ্র বিগত সময়ে বাথরুমে ‘আল্লাহু’লেখা,ভিন্টিলেটর ও নিজেকে রিজিক দাতা দাবি করেছে।
অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র ও  নেতারা মিলে নিয়োগ বাণিজ্য,পুকুর চুরি,সরকারি বরান্দ, ও কলেজের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি শিক্ষকদের উপর নির্যাতন চালিয়েছেন এবং বাথরুমে ‘আল্লাহু’ লেখা ভেন্টিলেটর স্থাপন ও নিজের রিজিক দাতা দাবি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
নিয়ম বহিভূতভাবে তার স্ত্রী বিথিকা সরকার এবং তার ভাইরা ভাই(শালিকার স্বামী) জনাব,প্রয়াস কুমারকে নিয়োগ প্রদান, শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রডের জন্য অন্যায় ভাবে অর্থ গ্রহন,একাডেমিক ভবনের নামে ৫ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ,করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকা আত্নসাৎ,কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব গোপন রাখা,শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে অতিরিক্ত রেজিঃ ফ্রি,ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত ফ্রি,প্রবেশ পত্র বিতরন ফ্রি,সার্টিফিকেট বিতরন ফ্রি,মারসিট বিতরন ফ্রি আদায়,বিভিন্ন সময় প্রকল্পের অর্থ কাজের নামে আত্নসাৎ,তার স্ত্রীকে অত্র কলেজে ২০০৫ সালে নিয়োগ দেওয়া সত্তেও মির্জাপুর দিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১২ সাল পযন্ত চাকুরি করার সুযোগ প্রদান করে এবং ২০০৫ সালের নিয়োগ করে বৈধ করে এখন অত্র কলেজের সহকারি অধ্যক্ষের বেতন গ্রহন করে আসছে,তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক কথা বললে,তাকে ভীতি প্রদশন,তিনি তার স্ত্রী এবং ভাইরা মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রুপদান করেছে। বর্তমানেও তিনি কার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বক্তারা অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে তার শাস্তি ও বহিষ্কার দাবি করেন।
অন্যদিকে,অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামাণিক ও অফিস সহকারী ওয়াজেদ আলী বলেন,এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রিয়াংকা দাস জানান,কলেজের এক সহকারী অধ্যাপক বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তাকে অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে,তার বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য,বিগত সরকার আমলেও অধ্যক্ষ নয়ন চন্দ্র প্রামাণিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে,এসব অভিযোগে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ মাধনগরবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ার কারণে,সবই তা ধামা চাপা পরে যায়। আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে এই নয়নরা!
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!