হোম » সারাদেশ » আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান, নাগরিক সেবায় ভোগান্তি

আত্মগোপনে ইউপি চেয়ারম্যান, নাগরিক সেবায় ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম দেড় মাসেরও বেশি সময় আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি কোথায় আছেন, সঠিক ঠিকানাও কেউ জানে না। এতে ইউনিয়নের নাগরিকরা পরিষদে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদ নিতে না পেরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খান সাইফুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। এরপর ১৩ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবীতে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে অস্ত্র মিছিল করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই অস্ত্র মিছিলের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দেন ইউপি চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম।
এই ঘটনা নিয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আলফাডাঙ্গা থানায় আওয়ামী লীগের ১৭০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের বুড়াইচ এলাকার বাসিন্দা বিএনপির সমর্থক লাভলু সর্দার। মামলায় আড়াই থেকে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মামলার এজাহারভুক্ত আসামির তালিকা থেকে খান সাইফুল ইসলামের নাম বাদ যায়। পরবর্তীতে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ অস্ত্র মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার শুরু করেন। গ্রেপ্তারের এই ভয়ে হঠাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম।
সরেজমিন দেখা গেছে, চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকায় ইউনিয়নের বাসিন্দারা জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ কায়েম সনদ নিতে পারছেন না। এতে নিজেদের এবং সন্তানদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজসহ স্কুল-কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এ ছাড়া আর্থিক লেনদেন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘একটা কাজে বেশ ক’দিন ধরে ঘুরতেছি, বোর্ড অফিসে এসে চেয়ারম্যানকে পাই না।’ আমেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘একটি জন্মনিবন্ধন করাতে কিছুদিন ধরে পরিষদে আসতেছি। কিন্তু চেয়ারম্যানকে না পাওয়ায় আজও জন্মনিবন্ধন করাতে পারিনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘হঠাৎ করে চেয়ারম্যান আত্নগোপনে চলে গেছেন। তিনি কোথায় আছেন, কবে ফিরে আসবেন কিছুই বলে না। আবার এদিক দিয়ে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকেও কোন লিখিত দায়িত্ব দিয়ে যায়নি। তাই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমাদের কাজকর্ম করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। এভাবে পরিষদ চালানো যায় না। জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।  আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।’
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!