
জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার চকতাতারু গ্রামের দুই গরু ব্যবসায়ীকে মারপিট করে ৬লাখ টাকা ছিনতাই করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঐ দুই ব্যবসায়ী জাহেদ আলী ও ডাবলু হোসেন গুরুত্বর আহত হলে তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় জাহেদ আলীর চাচাতো ভাই রতন হোসেন নওগাঁ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন আসামী আটক কিংবা মামলা রুজু করেনি পুলিশ।
থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, ঘটনাটি গত ৩১ আগষ্ট (রবিবার) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার চকতাতারু গ্রামের গরু ব্যবসায়ী জাহেদ আলী ও ডাবলু হোসেন গরু কেনার জন্য কানমটকাই এলাকায় যাওয়ার পথে চকপাচি গ্রামে সামিদুলের বাড়ীর সামনে দিয়ে যাবার সময় সামিদুলের দুই ছেলে নাহিদ ও নয়নসহ আরো ৭-৮জন তাদের পথ রোধ করে হাতে থাকা লাঠি, লোহার রড, ধারালো রামদা, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রসন্ত্র দিয়ে জাহেদ ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার ডাবলু হোসেনের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে।
হামলার ঘটনায় দুইজন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাদেরকে আরো এলাপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে যখম করে তাদের কাছে গরু কেনার ৬লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন তারা। পরে আহত অবস্থায় এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ভ্যান যোগে নওগাঁ সদর হাসপতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে জাহেদ আলীর চাচাতো ভাই রতন বাদী হয়ে থানায় গিয়ে হামলার সাথে অভিযুক্ত চকপাঁচি গ্রামের সামিদুল ও তার দুই ছেলে নাহিদ, নয়ন এবং হামিদুল মাঝির ছেলে শিশির ও শুকুর আলী মাঝি ও তার ছেলে নিরনসহ মোট ৮জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে থানায় অভিযোগ দায়েরের ৭দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড কিংবা কাওকে আটক করেনি। যার ফলে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদী পক্ষ।
রতন হোসেন বলেন- আমি বাড়িতে ছিলাম মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গিয়ে দেখি আমার চাচাতো ভাই জাহেদ আলীর অবস্থা খুবই আশঙ্খাজনক। তারপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন ডা: সেখানে ৪দিন ভর্তি থাকার পর এখন তারা একটু সুস্থ হলে তাদের বাসায় নিয়ে আসছি। আমি ঐদিন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে সব শুনে গেছে কিন্তু এখনো আমাদের মামলা রেকর্ড করছেনা। কিংবা কোন আসামীও ধরছেনা। পুলিশের ভুমিকা রহস্যজনক মনে হচ্ছে আমাদের কাছে। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
ভুক্তোভোগী গরু ব্যবসায়ী জাহেদ আলী ও ডাবলু বলেন- আমরা গত রবিবার সকালে মটরসাইকেল নিয়ে গরু কেনার উদ্দেশ্যে চকপাঁচি গ্রামে যাই। সেখানে গরু দেখি দরদামে না হওয়ার কারনে ফিরে আসতেছিলাম যখন সামিদুলের বাসার সামনে আসি তখন তার দুই ছেলেসহ আরো ৭-৮জন আমাদের গড়ির সামনে দাঁড়ায় মটরসাইকেল স্লো করার সাথে সাথে আমাদের উপর এসএস পাইপও হাসুয়া বটি নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। আমরা গাড়ি থেকে পড়ে গেলে সবাই মিলে তখন আমাদের মারতে শুরু করে। সেখানে জাহেদ আলী জ্ঞান হারান। এবং কোন একসময় আমাদের কাছে থাকা গরু কেনার ৬লাখ টাকা তারা ছিনিয়ে নেন। আমরা এর সুষ্ট বিচার চাই। এবং আমাদের কষ্টের অর্জিত ব্যবসার টাকা ফেরত চাই। এই টাকা না পেলে আমরা পথে বসে যাবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- তাদের সাথে জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার আগের দিন শনিবার আমরা সেই জমিতে গাছ লাগাইছি পরের দিন ভোরে তারা সেই গাছ তুলে ফেলেছে। এবং তার কিছুক্ষন পরে আমাদের বাসার সামনে আসছে তখন মটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে আমি লাঠি দিয়ে দুই-চারটা বাড়ি মারছি।
অপর অভিযুক্ত সামিদুলের ছেলে গণঅধিকার পরিষদের নেতা নয়ন আলী বলেন- তাদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ তারা এর আগেও আমার বাবাকে মেরেছে। ঘটনার আগের দিন ঐ জমিতে গাছ লাগাইছি তারা তুলে ফেলেছে তার ১০মি: পরে আমাদের বাসার সামনে আসছে ৫-৬জন। আমি তো ভাই রাজনীতি করি আমার তো ছেলে পেলে আছে, তারা কি তাহলে ছেড়ে দিবে। কোন দলের রাজনীতি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমি গণঅধিকার পরিষদের নওগাঁর সমাজ-কল্যান বিষায়ক সম্পাদক হিসেবে আছি।
তিনি আরও বলেন- আমিও এঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ দুই পক্ষর অভিযোগ নিয়ে রাখছে জমিজমার বিষয় পুলিশ এখানে কি বলবে। পুলিশ আসছিল এলাকায় সবাই আমার পক্ষে সাক্ষী দিয়েছে।
৬লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই এত সকাল বেলা লুঙ্গি পরে কেউ ৬লাখ টাকা নিয়ে বের হবে ? এটা সম্পূর্ন মিথ্যে কোন টাকা ছিলনা তাদের কাছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ সদর মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) হরুন-অর-রশিদ বলেন- আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে এসছি তদন্ত রিপোর্ট রেডি রেখেছি ওসি স্যার ছুটিতে আছেন আসলে মামলার বিষয়ে একটা সিধান্ত নেয়া হবে। বাদীপক্ষ কঠিণভাবে ৩২৫-৩২৬ধারায় মামলা নেওয়ার জন্য দাবি করছেন। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। স্যার আসলে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন- আসলে টাকার বিষয়টা সেভাবে কনফার্ম হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল হতে যে ব্যক্তি তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছে তার সাথেও কথা বলেছি তিনিও সেভাবে টাকার কোন কথা বলতে পরেনি। সে শুধু গামছা দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে এতটুকু জানে আর জাহেদ আলী অজ্ঞান ছিল তাই তার সাথে সেভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো বলেন- তার অপর যে পার্টনার ছিল ডাবলু তিনি বল্লেন তার কাছে সাড়ে ৩লাখ টাকা ছিল। তাদের আত্মীয়স্বজন বলছে তাদের কাছে টাকা ছিল কিন্তু কতটাকা ছিল এটা শিওর করে কেউ বলতে পারছেনা।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ