
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অটোরিকশা চালক থেকে কথিত সাংবাদিক বনে যাওয়া জালালকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চলমান শতাধিক অবৈধ ড্রেজার থেকে জালাল ভয়ভীতি দেখিয়ে মাসে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করত। সাম্প্রতিক সময়ে তার দাপট আরও বেড়ে যায়। ড্রেজার মালিকদের কাছে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে, টাকা না দিলে হুমকি দিত।
নানা পরিচয়ে প্রতারণা স্থানীয়রা জানান, কখনো সাংবাদিক, কখনো স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, আবার কখনো স্থানীয় সাংবাদিক জনি ফারুককে মামা পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করত জালাল। এমনকি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি ব্যবহার করেও নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন ড্রেজার মালিকরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
ড্রেজার মালিকদের একাংশ বলেন— “আমরা ড্রেজার চালিয়ে সংসার চালাই। এজন্য সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কাজ করি। কিন্তু ভুয়া সাংবাদিক জালালের অতিরিক্ত চাঁদাবাজিতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম।”
অভিযোগ রয়েছে, দেবিদ্বারের ১৫ ইউনিয়নের প্রায় সব ড্রেজার মালিকের নম্বর তার কাছে ছিল। পাশের ব্রাহ্মণপাড়াতেও নিয়মিত গিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত সে।
প্রশ্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন অটোরিকশা চালক কীভাবে সাংবাদিক হলেন এবং কার সহায়তায় এতদিন চাঁদাবাজি চালিয়ে গেলেন—এমন তদন্তের দাবি উঠেছে।
গ্রেফতারি অভিযান
পাঁচ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে ভুয়া সাংবাদিকদের কোনো স্থান নেই বলে সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, জালালের মতো প্রতারকরা সাংবাদিকতার নাম কলুষিত করছে। অবশেষে জনঅভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আজ তাকে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২