
সান্টু ইসলাম, নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি
পাখি প্রেমিক কালামের ডাকে সাড়া দেয় শত শত পাখি। বলছিলাম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পাখিপ্রেমিক কালামের গল্পের কথা। কালার উপজেলার একজন ভাজা ব্যবসায়ী, যিনি শুধু ব্যবসা করেন না, বরং পাখিদেরও আপন করে নিয়েছেন। প্রতিদিন বিকাল ৪টার দিকে, দোকান খোলার আগে, তিনি হাতে কিছু খাবার নিয়ে ‘আয় আয়’ বলে ডাকেন—আর তার এই ডাকে সাড়া দেয় শত শত পাখি। আশেপাশের গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, এমনকি দূরের মাঠ থেকেও উড়ে আসে পাখিরা।
কালাম সরদার বলেন, “প্রতিদিন দোকান খোলার আগেই আমি পাখিগুলোকে ডাক দিই। তারা আমার ডাকে ওড়ে আসে, আর আমি তাদের খাবার দিই। ওদের খাওয়া দেখতে দেখতে আমার মন ভরে যায়। এটা যেন আমার জীবনের একটা আনন্দের অংশ হয়ে উঠেছে।”

এই দৃশ্য অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। মোঃ শরিফুল ইসলাম, যিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন, জানান, “প্রতি সপ্তাহে নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে আসার সময় আমি পাখিগুলোর এই মিলনমেলা দেখি। সত্যি বলতে, এটা আমার সারা সপ্তাহের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ জিল্লু ইসলাম বলেন, “এই কালাম ভাই যখন ‘আয় আয়’ বলে ডাক দেন, তখন চারপাশের নির্জনতা ভেঙে যেন কোথা থেকে শত শত পাখি উড়ে আসে। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য।”
আরেক ব্যবসায়ী সত্যজিৎ বলেন, “কালাম ভাই একজন প্রকৃত পাখিপ্রেমিক মানুষ। তিনি যেভাবে পাখিদের যত্ন নেন, তা আমাদের জন্যও শিক্ষণীয়। তার এই কাজ দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন।”
এই ভালোবাসা শুধু মন ভালো করা কোনো দৃশ্য নয়, এর পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। পাখিরা পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। এমন প্রকৃতিপ্রেমিক মানুষ সমাজে বেশি থাকলে পরিবেশও সুন্দর থাকবে, প্রাণীকুলও নিরাপদ থাকবে।
পাখিদের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে শুধু পশু-পাখিকেই নয়, মানুষকেও ভালোবাসার পাঠ শেখাচ্ছেন মোঃ কালাম সরদার। তিনি যেন গ্রামীণ বাংলার এক অনন্য ভালোবাসার নাম।