
লাল শাপলার সমারোহে রূপকথার রাজ্য
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বুকে জেগে থাকা চেচুয়া শাপলা বিল যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি। বর্ষার পানি নামতেই বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হাজারো লাল শাপলা। সূর্যের প্রথম কিরণ যখন পানির উপর পড়তে শুরু করে, তখন হঠাৎ করেই গোটা বিল লাল আভায় রাঙিয়ে ওঠে। মনে হয়, প্রকৃতি যেন শাপলার রঙে নিজের ক্যানভাস সাজিয়েছে।
ভোরের শাপলা—চোখ জুড়ানো দৃশ্য
ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় শাপলার কচি পাপড়িগুলো ধীরে ধীরে খুলে যায়। হালকা বাতাসে ফুলের দুলুনি—এ যেন এক স্বপ্নরাজ্যের নাচন। পাড়ে দাঁড়িয়ে বা নৌকায় চড়ে যখন কেউ এ সৌন্দর্য দেখে, তখন মনে হয় শাপলারা হাসিমুখে ভ্রমণপিপাসুদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে।
চারপাশে সবুজ ফসলের ক্ষেত, মাঝে মাঝে কচুরিপানা আর ঘাসের ঝাঁক, আর তার মধ্যে বিস্তীর্ণ লাল শাপলার কারুকাজ—এ দৃশ্য দেখে সহজেই ভুলে যাওয়া যায় শহরের কোলাহল।
জীবিকার উৎস শাপলা
শুধু সৌন্দর্য নয়, শাপলা এখানে জীবিকারও অংশ। স্থানীয়রা শাপলার ডাঁটা বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান। শাপলার ডাঁটা দিয়ে ভর্তা, তরকারি কিংবা ভাজি তৈরি হয় সুস্বাদু খাবার হিসেবে। বর্ষা মৌসুমে আবার এই বিল জেলেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ, কারণ প্রচুর মাছ ধরা পড়ে।
পর্যটকের ঢল, নৌকায় রূপকথার ভ্রমণ
প্রায় ২০ একর আয়তনের এ বিল প্রতিদিনই দর্শনার্থীতে মুখরিত হয়ে ওঠে। শুক্র, শনি কিংবা সরকারি ছুটির দিনে এখানে নেমে আসে পর্যটকের ঢল। সারিবদ্ধ নৌকায় চড়ে যখন ভেতরে যাওয়া হয়, তখন সত্যিই মনে হয়—“শাপলার সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছি।”
লাল শাপলার পাশাপাশি শীতের অতিথি পাখির আগমনে এ বিল পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়। নৌকার মাঝিদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, আর তাদের মুখেও ফুটে ওঠে জীবিকার হাসি।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা
স্থানীয় বাসিন্দা হাতেম আলী বলেন—“দীর্ঘদিন ধরে এ বিলে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফুটে চলছে। তা দেখতেই দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন। বিলের সৌন্দর্য দেখলেই মন ভরে যায়।”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাতুল ইসলাম বলেন—“প্রথমবার এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। তবে নৌকা ভাড়ার সিন্ডিকেট পর্যটকদের জন্য কষ্টকর। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।”
শাপলা প্রেমিক এস এম মাসুদ রানা বলেন—“ভোরে এসে দেখলাম শাপলার সঙ্গে অতিথি পাখিদেরও মিলনমেলা বসেছে। এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।”
প্রশাসনের উদ্যোগ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন—“চেচুয়ার শাপলা বিল ত্রিশালের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ। পর্যটকদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। নৌকা ভাড়া ও সেবায় শৃঙ্খলা আনা হবে।”

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ