হোম » সারাদেশ » মোল্লাহাটে আমন মৌসুমে কৃষকের ব্যস্ততা,বাম্পার ফলনের আশা

মোল্লাহাটে আমন মৌসুমে কৃষকের ব্যস্ততা,বাম্পার ফলনের আশা

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেশের খাদ্যশস্যের বিরাট অংশ উৎপাদিত হয় আমন ধান থেকে। দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় বরাবরের মতো এবারও আমন মৌসুমে ব্যাপক হারে আমন ধান চাষ হয়েছে। এসময় কৃষকরা মাঠে চারা রোপণ ও জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোপা আমনের ক্ষেত্রে আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বপন করা হয়। এরপর শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে (এলাকাভেদে) ধান কাটা হয়। অন্যদিকে বোনা আমন সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে জমিতে ছিটিয়ে বপন করা হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটা হয়। এ ধানকে স্থানীয়ভাবে আচার আমন, বাওয়া আমন বা গভীর পানির আমনও বলা হয়ে থাকে।
কৃষকের করণীয়:ধানের চারা রোপণের জন্য প্রথমে বীজতলা তৈরি করতে হয়। সেখানে বীজ বপন করে চারা প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে চারাগুলো মূল জমিতে রোপণ করা হয়। রোপণের সময় চারা সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণ করলে ফলন বেশি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে—চারা রোপণের গভীরতা হওয়া উচিত ২ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার (১–১.৫ ইঞ্চি)।
হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে চারা থেকে চারা ২০ সেন্টিমিটার ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার রাখা দরকার।
সতর্কতা ও উপকারিতা:কৃষিবিদরা জানান, ধানের চারা অবশ্যই সারি বা লাইনে রোপণ করা উচিত। এতে
১) আলো-বাতাস সমানভাবে চলাচল করে,
২) পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়,
৩) সার প্রয়োগ সহজ হয়,
৪) কীটনাশক স্প্রে সুবিধাজনক হয়,
৫) ধানের ফলন বৃদ্ধি পায়।
এ সময় কৃষকরা আশাবাদী যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হবে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে মোল্লাহাটের কৃষকরা।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!