প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৫:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ২৯, ২০২৫, ১:১৬ অপরাহ্ণ
তালাকের পর ভয়ংকর হামলা: প্রবাসী যুবকের পরিবারকে হত্যার হুমকি, ছোট ভাই আহত

মোহাম্মদ হানিফ সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালী, বেগমগঞ্জ সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় তালাক পরবর্তী পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রবাসী যুবক ইয়াসিন আরাফাতের ছোট ভাই আরিফ হোসেনকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। এই হামলার মূল কারণ হিসেবে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইয়াসিনের ডিভোর্স হওয়া স্ত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই হামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বেগমগঞ্জের নাটেশ্বর মির্জানগর এলাকার নূরনবী ডিপটির মেয়ে উম্মে সালমা মিমের সাথে পারিবারিকভাবে ইয়াসিন আরাফাতের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী মিমের উশৃঙ্খল জীবনযাপন ও দুর্ব্যবহারের কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এক পর্যায়ে মিম নিজেই ডিভোর্স চান। পরবর্তীতে ইয়াসিন গত ১৬/০৭/২০২৫ তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে ডিভোর্স সম্পন্ন করেন।
ডিভোর্স পেপার হাতে পাওয়ার পর মিমের পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ইয়াসিন ও তার পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে মিমের পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গত ১৯/০৮/২০২৫ তারিখে কাবিনের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু টাকা গ্রহণের পরপরই মিমের বড় ভাই মো. মিরাজ, ইয়াসিনকে ফোন করে তাকে এবং তার পরিবারের চার সদস্যকে (মা, ভাই-বোন) হত্যা করার হুমকি দেন। একই দিনে মিমের বাবাও ইয়াসিনের মায়ের কাছে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেন।
হুমকির একদিন পর ২০/০৮/২০২৫ তারিখে মিরাজ ও তার সহযোগীরা ইয়াসিনের মেজো ভাই আরিফ হোসেনের বেগমগঞ্জস্থ অফিসে তাকে তুলে আনতে যায়। সৌভাগ্যবশত আরিফ খবর পেয়ে সেদিন অফিসে যাননি। কিন্তু এর কিছুদিন পর ২৪/০৮/২০২৫ তারিখে মিরাজ তার বাবা ও পরিবারের সহযোগিতায় কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আবারও আরিফের অফিসের নিচে অবস্থান নেন। তারা আরিফকে অপহরণ করে চৌমুহনী বাজারের একটি নির্জন গলিতে নিয়ে যায় এবং বেধড়ক মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে মিরাজ পিস্তল বের করে গুলি লোড করে হত্যার চেষ্টা করে এবং এই ঘটনা নিয়ে মামলা করলে পুরো পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। কোনোরকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে আরিফকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পরপরই ইয়াসিনের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভুক্তভোগী ইয়াসিনের পরিবার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা সমাজে এক নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মানুষের মনে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.