প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৫:১১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ২৬, ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ৬ বছরের এক শিশুকে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও গুমের ঘটনায় একমাত্র আসামি মোহাম্মদ সোলেমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত বলেছেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই হতে পারে।”
২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর বিকেলে বিদ্যালয় থেকে ফিরে বাড়ির সামনে খেলছিল ওই শিশু। এ সময় কেক ও জুসের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ঘরে ডেকে নেয় রামুর চাকমারকুল গ্রামের সৈয়দ করিমের ছেলে সোলেমান।
সেদিন সোলেমানের স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। একপর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন সোলেমান শিশুটিকে একটি লাগেজে ভরে নিয়ে যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া বাঁধে। সেখানে গিয়ে লাগেজ খুলে দেখে শিশুটি মারা গেছে। এরপর কাদামাটিতে লাশ পুঁতে রাখে সে।
শিশুটিকে হত্যা করার পরও পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল সোলেমান। ওইদিন রাতেই শিশুটির বাবার কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
পরের দিন (৮ ডিসেম্বর) শিশুর পরিবার থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে পুলিশ তদন্তে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। শিশুর বাবা ৯ ডিসেম্বর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মুক্তিপণের জন্য করা মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১০ ডিসেম্বর বিকেলে সোলেমান ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মহেশখালীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শোয়েব উদ্দিন খানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোলেমান পুরো ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করে।
তৎকালীন মহেশখালী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, “ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। তাই প্রথমে করা অপহরণ মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।”
এ মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, চার বছর আগে টেকনাফে আসমা বেগম নামে এক কিশোরীকেও হত্যা করেছিল সোলেমান। ওই ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।
আদালতের এ রায় ঘোষণার পর শিশুটির পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, নৃশংস এ ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়ায় তারা আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।
এদিকে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.