স্থানীয় বাসিন্দারা জানান- আলমগীর ও জাহাঙ্গীর নামে দুই ভাইয়ের জমি (উঁচু ভিটা) ভাড়া নিয়ে বগুড়ার এক ব্যক্তি এ সিসা গলানোর কারখানাটি স্থাপন করেছেন। সেখানে আগে পোল্ট্রিসেড ছিল এখন সেটি সিসা গলানোর কারখানা মালিক ভাড়া নিয়েছেন। সেই ভিটার (জমির) খোলা স্থানে বিশাল ট্রিফলের সামিয়ানা টাঙিয়ে তার নিচে হাজার হাজার ব্যাটারির বাক্স স্তুপ করেছে। সেখানে ম্রমিকরা সারাদিন ব্যাটারির ভিতর থেকে সিসার প্লেট খুলে খুলে সেগুলো রাতে গর্তের ভিতরে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে গলায়। এ সময় সিসা পুড়ানো ঝাঁঝালো গন্ধে এলাকায় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে। রাত নয়ঠার পরে সিসা গলানো শুরু করে আর ভোর রাত অবদি চলে সিসা গলানোর কাজ। সারা রাত মানুষ ছটফট করতে থাকে। নিশ্বাস নিতে চরম কষ্ট হয়। শিশু বৃদ্ধ নিয়ে অনেকে চরম কষ্টে আছেন। যাদের বাড়িতে রোগি আছেন তারা আরও বেশি কষ্টে থাকেন।
স্থানীয় আ. বাতেন বলেন, রাত নয়টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত সিসা পুড়ানো হয়। সিসা পুড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধে আমাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।আশ পাশের পরিবেশ ও দূষিত হচ্ছে। গরু,ছাগল ও হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে ।
কারখানার তত্বাবধানে থাকা আলী আজম জানান, কারখানার নাম সততা ব্যাটারি হাউজ। কারখানাটির মালিক বগুড়ার বাসিন্দা আশিক মাহমুদ। তিনি মাঝে মাঝে কারখানায় আসেন। কারখানাটিতে মোট ১৫জন শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকরা সবাই বগুড়া থেকে আসছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় আলমগীর হোসেনের জমি ভাড়া নিয়ে তারা কারখানাটি শুরু করা হয়েছে। আমরা আর তেমন কিছু জানিনা। আমরা লেভার সারাদির কাজ করি । মাস শেষে বেতন নেই। আইন মেনে না কি অমান্য করে এটি স্থাপন করা হয়েছে তা মালিক ভালো বলতে পারবে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনভর বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন ছোট বড় মাঝারি মাপের অচল ব্যাটারি ফেরিওয়ালা দিয়ে কিনা হয়। আবার অনেক সময় অনেক দোকান থেকেই নষ্ট ব্যাটারি কিনে এখানে আনা হয়। পরে সেগুলো থেকে সিসার প্লেট আলাদা করা হয়। রাত নয়টার পর সেই প্লেটগুলো একটি গর্তে রেখে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে সিসা গলানো হয়। এসব সিসা চলে যায় নতুন ব্যাটারি তৈরির কারখানায়।
এদিকে সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের অনিরাপদ অবস্থায় কাজ করতে দেখা যায়। খোলা স্থানে ব্যাটারির পরিত্যক্ত বক্সগুলো স্তপ হয়ে পড়ে আছে। আশপাশের সবুজ গাছপালার পাতা কালিতে ডেকে গেছে। অনেক শাক সবজিতে কালো দাগ পড়েছে। সিসা গলানো পানি পাশের মাছের খামার গড়িয়ে যাচ্ছে। বাতাসে ঝাঁঝালো গন্ধ ভাসছে।
সিসা গলানোর কারখানার (সততা ব্যাটারি হাউজ) মালিক আশিক মাহমুদ বলেন সিসা উৎপাদন অবৈধ না। তিনি কোনো অবৈধ কাজ করছেন না। তার বিরুদ্ধে কারো কোনো অভিযোগও নেই। এ বিষয়ে কোনো আইনও তিনি জানেনা বলে জানান।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিষ্টার সজিব আহম্মেদ জানান দ্রুত সময়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারথানা উচ্ছেদ করা হবে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরেফিন বাদল জানান, এটি সম্পুর্ন অবৈধ কাজ। উন্মুক্ত ভাবে সিসা গলানো পরিবেশ আইনে নিষেধ, এটা অপরাধ। আমরা দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।