হোম » সারাদেশ » বগুড়া শেরপুরে অচেনা মুখের আনাগোনা, উদ্বেগে স্থানীয়রা

বগুড়া শেরপুরে অচেনা মুখের আনাগোনা, উদ্বেগে স্থানীয়রা

‎এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলা – যা একসময় জমিদারদের শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল-সম্প্রতি এক রহস্যময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ অঞ্চল পর্যন্ত নানা বয়সী অচেনা মানুষের ঘোরাফেরায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, তবে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন-এটি হয়তো বড় ধরনের অস্থিরতার পূর্বাভাস।

‎রাত-দিন অচেনা মানুষের আনাগোনা স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বয়সী অপরিচিত যুবক ও নারীকে মোটরসাইকেল ও রিকশায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। তারা নীরবে আসে, কিছু সময় ঘোরাফেরা করে আবার দ্রুত সরে পড়ে। বিকাল বাজার এলাকার এক চা দোকানদার বলেন,

‎“সন্ধ্যার পর কয়েকজন অচেনা যুবক মোটরবাইকে ঘুরে বেড়ায়, নিচু স্বরে কথা বলে, আচরণে অস্বাভাবিকতা স্পষ্ট।” শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সিএনজি চালক আশরাফ আলী জানান,“গ্রামের নির্জন এলাকায় নামা অচেনা যাত্রীদের সংখ্যা বাড়ছে। কারও আচরণ সরাসরি সন্দেহজনক না হলেও বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।”

‎অটোরিকশা চালক আমজাদ হোসেন জানান, ‎“গভীর রাতে দুই নারী ও দুই পুরুষকে ব্যাগসহ উপশহরে নামিয়ে দিয়েছি, যাদের আগে কখনো দেখিনি। বিষয়টি অস্বাভাবিক লেগেছে।”

‎আরেক চালক দুলাল বলেন,“বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় বিকেলের পরপরই নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে, যারা আবাসিক এলাকায় নেমে যাচ্ছে।”

‎রাত্রিকালীন চালক শাহআলী বলেন, “তাদের ভাষা শুনে বোঝা যায়, তারা শেরপুরের বাইরের লোক।” রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বিষয়টি নিয়ে শেরপুরের রাজনৈতিক নেতারাও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মুস্তাফিধ নাসিম বলেন,

‎“অপরিচিত লোকজন প্রশাসনের নজরদারির আওতায় না থাকলে বিপদ হতে পারে। দায় গিয়ে পড়বে স্থানীয়দের ওপর। ‎পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা বলেন, “সম্প্রতি শেরুয়া বটতলা থেকে এক ছেলেকে হাত-পা বেঁধে তুলে নেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে, আত্মীয়-স্বজন ব্যতীত কাউকে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।”

‎উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, “নিজ চোখে না দেখলেও তথ্য পেয়েছি। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো দরকার। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

‎প্রশাসনের অবস্থান শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানান, “বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কেউ আতঙ্কিত না হয়ে সন্দেহজনক কিছু দেখলেই পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি। শেরপুরে নাশকতা প্রতিরোধে আমরা প্রস্তুত।”

‎শেরপুরে অচেনা লোকজনের চলাফেরা নিঃসন্দেহে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সতর্কতা এখন সময়ের দাবি। একে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে না করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবেও দেখা প্রয়োজন, যাতে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!