
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা থানায় ওয়ারেন্টমূলে গ্রেফতারকৃত এক আসামিকে পুলিশ হেফাজতে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে সোনাতলা থানার এ.এস.আই মিজানসহ চারজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন বগুড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক।
মামলা নং: জি.আর ৪১/২০২৪ (সোনাতলা) সোনাতলা থানার মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী সাইদুর রহমান তুষ্টি, পিতা মোঃ সারোয়ার হোসনে, সাং আগুনিয়াতাইড় (মাস্টারপাড়া), সোনাতলা, বগুড়া, ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত আদালতের ওয়ারেন্টমূলে গত ১৪ আগস্ট সকাল ১০টা নাগাদ গ্রেফতার হন।
আসামির অভিযোগ অনুযায়ী, সিভিল পোশাক পরিহিত দুইজন এবং ইউনিফর্ম পরিহিত এক পুলিশ সদস্য মিলে তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে সিএনজিতে তোলে এবং রাস্তায় ও সিএনজির ভিতরে মারধর করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর থানায় এ.এস.আই মিজান তাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে এসে বারান্দায় নিয়ে গিয়ে আরও তিন পুলিশ সদস্য মিলে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
মারধরের একপর্যায়ে এক সিভিল পোশাকধারী পুলিশ সদস্য হকিস্টিক দিয়ে তার দুই হাতের কনুই ও কব্জির ওপর এবং পেছনের অংশে (নিতম্বে) উপর্যুপরি আঘাত করে। এ.এস.আই মিজান পরবর্তীতে তার পায়ের জুতা দিয়ে তার গলায় সজোরে লাথি মারেন।
পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার হাতে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেন এবং চিকিৎসাপত্র প্রদান করেন। আসামির বক্তব্য শুনে এবং শারীরিক জখম প্রত্যক্ষ করে আদালত মনে করেন, ঘটনাটি “নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (প্রতিরোধ) আইন, ২০১৩” এর আওতাভুক্ত একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পুনরায় শারীরিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্যাতনের চিহ্ন ও সময় উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার, বগুড়া-কে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আসামির হলফনামা বিবৃতি পুলিশ সুপারের কাছে প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের অফিস সহায়ক কর্তৃক লজ্জাস্থানে জখমের অস্তিত্বও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট না পাঠিয়ে কেবল চালান ফরম ও চিকিৎসাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশের হেফাজতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশপত্র, সাক্ষ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রস্তুত।