
মো: সবুজ ইসলাম,রাণীশংকৈল
আমিষের উৎস মাছ। মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম খাদ্য। এসব খাদ্যই হচ্ছে মাছ চাষের উপযুক্ত। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু পুকুর ব্যবসায়ীরা মুরগির বিষ্ঠাকে মাছের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছে এমন অভিযোগ জনসাধারণের।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন প্রায় ৫০ ভাগ পুকুরেই মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) সরাসরি মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে। এ অঞ্চলে মুরগির বিষ্ঠা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করে সরাসরি খামার থেকে নিয়ে পুকুরে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে যত্রতত্র রেখে মাছ চাষে ব্যবহারের কারণে পুকুরের পানি দূষিত হচ্ছে ও দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
সরজমিনে জানা যায়, নেকমরদ - কাতিহার মহাসড়ক, নেকমরদ- চেকপোস্ট সড়ক,মীরডাঙ্গী - গজিরহাট ও চামারদিঘি সড়কসহ গ্রামগঞ্জের প্রায় অধিকাংশ পুকুরে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও তৎসংশ্লিষ্ট বর্জ্য পদার্থ যা স্থানীয়রা লিটার বলে অভিহিত করে।
স্থানীয়রা জানান, খামারের মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি পুকুরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে মাছের খাবার হিসেবে। এতে খরচ কম হলেও দুর্গন্ধে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, বাড়ছে রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকি।
পুকুরপাড়ে বসবাসকারী কয়েকজন জানান, দিন-রাত গন্ধে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া মুরগির বিষ্ঠায় থাকা জীবাণু পানিতে মিশে নষ্ট করছে আশপাশের জলজ প্রাণীও।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাস্তার পাশে এসব পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হলেও দেখার কেউ নেই। মুরগির লিটার ব্যবহারের ফলে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র- ছাত্রী সহ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ। কিছু সংখ্যক গ্রামের মানুষ মৎস্যচাষীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে এসব নীরবে সহ্য করে যাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, মুরগির বিষ্ঠা প্রক্রিয়া করে জৈব সার তৈরি করা যায়। যা প্রায় ৪ মাস মাটিতে পুঁতে রেখে ১’শ কেজি বিষ্ঠা থেকে প্রায় ৫০ কেজি টিএসপির গুনাগুন সমৃদ্ধ জৈব সার পাওয়া সম্ভব। যা পুকুরে মাছ চাষে ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, মুরগীর খাবারে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল রয়েছে। মুরগীর মল মাছের শরীরে প্রবেশ করলে সহজে ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরবর্তীতে মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল জানান, শুনেছি মৎস্যচাষীরা মুরগির বিষ্ঠা ও তৎসংশ্লিষ্ট বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকে আমি নিজে মৎস্যচাষীদের এসব না ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে সচেতন করেছি। তবুও তারা থামছে না। আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।