প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৮:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ১৪, ২০২৫, ৩:১১ অপরাহ্ণ

মো:তারিকুর রহমান, (জীবননগর) চুয়াডাঙ্গা
বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করে জীবননগর উপজেলা এখন সারাদেশে ফলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত লাভ করছে। এই এলাকার মাটি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।জীবননগর উপজেলার কৃষি ও বানিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিতি ও সমাদৃত হয়ে উঠেছে।
এখানকার কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে খাদ্যজাত ফসল ধান, পাট, ভুট্টা চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দেশী-বিদেশি ফলের ও আবাদ করে থাকেন।
উৎপাদিত ফল বিক্রির ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের কৃষকদের অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হতো।
কৃষকদের সুবিধার জন্য উপজেলার হাসাদাহ বাজারে গড়ে উঠেছে ফলের বাজার।
কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফল কৃষিজমি থেকে ফলের বাজারে এনে সহজেই বিক্রি করতে পারছেন।
প্রতিদিন বিক্রয় করা হচ্ছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ফল।ফলের বাজার কে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে হাজারো বেকারের। হাসাদাহ বাজার ঘুরে দেখা গেছে কৃষকেরা ড্রগন,পেয়ারা, মাল্টা সহ মৌসুমি ফলে ভরপুর ফলের বাজার। নেচারাল ড্রাগন পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ৫২০০ থেকে ৪০০০ টাকা। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০। হাসাদাহ এ ফলবাজার ফলব্যবসায়ী ও চাষীদের মাঝে ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়েছে।
ফল বাজারে বিভিন্ন মৌসুমি ফল সকাল থেকে গভীর রাত অবধি বাইরের জেলার ব্যাপারীদের কাছে বেচাকেনা হচ্ছে পাইকারী দরে। ক্রেতা বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে ন্যায্য মুল্যে ফল কেনাবেচা করছেন।
হাসাদাহ ফল বাজারের পরিচালক ময়েন উদ্দিন ময়েন বলেন, এই হাট তৈরীর পূর্বে অনেক সময় এই অঞ্চলের চাষীরা তাদের বাগানের উৎপাদিত ফল ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট,ও খুলনায় গিয়ে বেচা-কেনা করতে হতো। বেশী খাজনা দিয়েও অনেক সময় ফল কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হতো কৃষকরা। বাজার সিন্ডিকেটের কারনে বাধ্য হয়েই একসময় কমদামে ফল বিক্রি করতে হয়েছে এ অঞ্চলের অনেক কৃষকদের । কৃষকের এমন হতাশা ও দূর্দশার কথা মাথায় নিয়ে হাসাদাহ ফল বাজার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
ফল ব্যবসায়ীরা জানান, হাসাদাহ বাজারের পূর্ব দিকে অনাআবাদি দুইবিঘা জমির উপর টিনশেড দিয়ে প্রথম দিকে ১২ টি আড়ৎ নির্মান করে শুরু করা হয় ফল বাজারজাত করনের ব্যবসা।
এরপর চাষি ও ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়ে পেয়ে এখন সর্বমোট মিলিয়ে ৪০ টির মতো আড়ৎ আছে।এবং দিনদিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলের হাটের পাশ্ববর্তী বাবলু টি স্টোরের মালিক বাবলু বলেন, আগে আমার দোকানে তেমন কোনো বেচাকেনাই হতো না। এখন এই ফলের হাটকে কেন্দ্র করে আমার ব্যবসার পরিধি আরো বাড়ছে। বাজারে লোকসমাগম থাকায় আমারও ভালো বেচাকেনা করে ভালো আয় হচ্ছে।
হাসাদাহ ফল বাজারের কাটাপোল ফল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মামুন বলেন, চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফল বিনা খাজনায় এখানে সরাসরি বিক্রি করছে বেপারীদের কাছে। তারা বাইরের ব্যাপারীদের কাছে নগদ মুল্যে ফল বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছে। আড়তে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যাপারী ও ক্রেতা বিক্রেতার ভীড় জমে। কাটাপোল গ্রাম থেকে ড্রাগন বিক্রি করতে আসা নোয়াব আলী বলেন, আজ হীম ড্রাগন বিক্রি করলাম নগদ মুল্যে আমার বাড়ির কাছে ফলের আড়ৎ হওয়ায় আমাকে ফল বিক্রি করতে গিয়ে তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি। হাটের ব্যবস্থাপনা এখন ভালো আছে।
সম্ভবনাময় এই হাটকে কেন্দ্র করে লেনদেন করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক এখানে ব্যবসার জন্য জায়গা খুজছে বলে জানা গেছে।ফলের বাজার কে কেন্দ্র করেএই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা দুয়ার খুলেছে। অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.আলমগীর হোসেন জানান 'এই উপজেলায় এখন কৃষকরা দেশীয় ফল চাষের পাশাপশি বানিজ্যিক ভাবে বিদেশী আঙ্গুর, চায়না কমলা
,মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা আম,বারোমাসী কাঠাল, ও লিচু সহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের চাষ করে থাকেন। তিনি জানান মৌসুমের এ সময়ে জীবননগর উপজেলার জীবননগর পৌরসভা এলাকাসহ ৮ টি ইউনিয়নে
মোট কৃষি জমির প্রায় ৫১৬ হেক্টর জমিতে আম ৪৯২ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ২৪৩ হেক্টর জমিতে মাল্টা ১০১ জমিতে কমলা, ৭২১ হেক্টর জমিতে পেয়ারা ও ৩০ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান সহ মোট ২২৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের আবাদ করা হয়।