হোম » সারাদেশ » “যন্ত্র পায় ঘনিষ্ঠজন, মাঠে পড়ে কৃষকের কান্না”

“যন্ত্র পায় ঘনিষ্ঠজন, মাঠে পড়ে কৃষকের কান্না”

সহদেব সূত্রধর সায়ন, বাসাইল, টাঙ্গাইল:

আমাদের পরিবারে তিনটি হারভেস্টার বরাদ্দ দেখানো হলেও আমরা পেয়েছি দুইটি। বরাদ্দের অপরটি তারা উৎকোচ হিসেবে নিয়েছে। পরে অর্ধেক ভর্তুকির টাকা উপজেলা কৃষি অফিস ও কোম্পানীর লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদী গ্রামের মোঃ খালিদ হোসেন খানের নামের এক ব্যক্তির নামে একটি কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আবার একই সেই একই ব্যক্তি নামে আরেকটি কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার দেখতে গেলেও তা সংশ্লিষ্ট গ্রহিতাদের হেফাজতে তা পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান আলীর দপ্তরে গেলে তিনি বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। সব গুলো কম্বাইন হারভেস্টার সচল আছেন বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আশেক পারভেজ বলেন, আমি টাঙ্গাইলে যোগদানের আগে এসব কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সামাজিক অনুষদের ডিন ড. নাজমুস সাদেকীন বলেন, এই অনিয়মের কারণে একটি পক্ষ লাভবান হবে আরেক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এসব অপচয় সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যা দেশের সমগ্র অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রতিটি কম্বাইন হারভেস্টারের দাম প্রায় ২৮ লাখ টাকা। অর্ধেক ভর্তুকির ১৪ লাখ টাকা আত্মস্বাত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা কৃষকদের সরলতাকে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মস্বাতের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাসাইল থেকে দ্রুত বদলি হওয়ার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বদলি হয়ে চলে গেছেন। এদিকে কিছু কম্বাইন হারভেস্টার এলাকায় থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!