
নিজস্ব প্রতিবেদক
গরুরা গর্বিত, দুধও পেল বিপ্লবী সম্মান। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিএনপির পার্টি অফিসে ঢুকে পড়া আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ‘অপরাধে’ এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করানো হয়েছে অফিসটিকে—শুধু কলঙ্ক মোচনের জন্য! ফলস্বরূপ, দুধ নয়, এবার ভাইরাল হয়েছে গোসল!
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম তুহিনের নেতৃত্বে চালানো এ ‘দুধযুদ্ধ’ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ‘বাজিমাত’ করেছে। কারো হাতে বালতি, কারো হাতে গ্যালন—সবাই মিলে যেন করছিলেন পার্টি অফিসের দুধ-স্নান, উদ্দেশ্য: রাজনৈতিক পরিশুদ্ধি!
“দুধে ধুয়ে পবিত্র করলাম”
বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে, ৫ আগস্টের ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মিছিলে হঠাৎ করেই ‘অপরিচিত পরিচিতদের’ প্রবেশ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দলের ‘ইশরাকপন্থী’ একটি অংশ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের লোকজনকে নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে। ব্যস, আর যায় কোথায়!
ছাত্রদল-যুবদলের ‘দুধবাহিনী’ সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেয়—“পার্টি অফিস কলঙ্কমুক্ত করতে হলে চাই গো-দুগ্ধ। কিছুর কমে চলবে না!”
সত্যিকারের দুধ নাকি রাজনৈতিক পেস্টরাইজেশন?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুধ ছিল খাঁটি। প্যাকেটজাত নয়, খামারজাত। বালতিতে করে ঢালাও অভিযান চলে। কেউ বলছেন, এক মণ দুধে না কি অফিসে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে—“দেখলেই মনে হয় এখন গরু-পছন্দের জায়গা”।
গণমাধ্যমে দুধ, ফেসবুকে ঢেউ ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল। ব্যাকগ্রাউন্ডে রাজনৈতিক ভাষণ আর ফ্রন্টগ্রাউন্ডে বালতির পর বালতি দুধ। একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের রাজনীতি এখন দুধেল গরুর মতো, কেউ দুধ দিচ্ছে, কেউ দুধে ডুবছে!”
আরেকজন লিখেছেন, “তিন বালতি দুধ আর দুই কেজি হাস্যরস মিশিয়ে বানানো হলো বিএনপির নতুন ক্লিনিং পলিসি।”
দুধের বিনিময়ে বার্তা: ‘ফ্যাসিবাদে সাবধান!’
তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, “আওয়ামী লীগের এজেন্টরা পার্টি অফিসে ঢুকে কলঙ্ক ছড়িয়েছে। আমরাও এক মণ দুধ ঢেলে কলঙ্ক ধুয়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে যেন কেউ সাহস না পায় ঢোকার।”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে কথায় কথায় ‘রক্ত ঝরে’, সেখানে হঠাৎ করে দুধ ঝরার ঘটনা এক নতুন মোড়। কেউ বলছেন এটি 'মিল্ক রিভলিউশন', কেউ বলছেন 'দুধ দিয়ে ধোয়ার নাটক'। তবে যাই হোক, গরুদের সম্মান আজ নতুন করে প্রতিষ্ঠিত—“রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষায় দুধও হতে পারে অস্ত্র!”